যশোরের অভয়নগর উপজেলায় চাঁদাবাজির অভিযোগে সাবেক বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান জনিসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলাটি করেছেন নওয়াপাড়ার ব্যবসায়ী মেহেদী হাসানের স্ত্রী রাবেয়া সুলতানা সুমি।
সোমবার (১৩ আগস্ট) তিনি অভয়নগরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালতের বিচারক জুবাইদা রওশন আরা অভিযোগটি আমলে নিয়ে অভয়নগর থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন—নওয়াপাড়ার রমজান আলীর ছেলে সাকির আহমেদ, জয়নালের ছেলে কামরুজ্জামান মিঠু এবং গোয়াখোলার খোকা মাস্টারের ছেলে সম্রাট।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, মেহেদী হাসান নওয়াপাড়ার একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। ৭ জুলাই আসামি জনি তাকে নিজের অফিসে ডেকে নিয়ে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাপে পড়ে মেহেদী হাসান ধার করে টাকা পরিশোধ করেন। এরপর আবার তাকে অফিসে ডেকে এনে জানানো হয়, জমি বিক্রি থেকে পাওয়া ৩০ লাখ টাকাও চাঁদা হিসেবে দিতে হবে। এ নিয়ে কথা বললে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
এ সময় আসামিরা মারধরের ভয় দেখিয়ে মেহেদীর কাছ থেকে তিনটি ১০০ টাকার ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। পরে মিঠু ও সম্রাট তাকে মোটরসাইকেলে করে বাসায় পৌঁছে দিয়ে ৩০ লাখ টাকার চেক দাবি করেন।
ভয়ে তার স্ত্রী ৫০ হাজার টাকার একটি স্বাক্ষরিত চেক ও দুইটি স্বাক্ষরবিহীন চেক নিয়ে আসামিদের কাছে পৌঁছে দেন। পরবর্তীতে তারা ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন এবং স্বাক্ষরবিহীন চেকগুলোতেও স্বাক্ষর দিতে চাপ দেন। না করলে মেহেদীকে খুন-জখমের হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
চরম মানসিক চাপে মেহেদী হাসান অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাকে যশোর ও পরে ঢাকায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
এর আগে, নওয়াপাড়ার আরেক ব্যবসায়ী শাহনেওয়াজের কাছ থেকে ৪ কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে তাকে অপহরণের হুমকির অভিযোগে মামলা হয়, যেখানে আসাদুজ্জামান জনি ও তার বাবা কামরুজ্জামান কারাগারে আটক আছেন।

