বাংলাদেশের অন্যতম কৃষিভূমি যশোর সদর উপজেলার ৩৩ হাজার হেক্টর আবাদি জমি বর্তমানে ধ্বংসের মুখে। কৃষকদের অভিযোগ, উপজেলার নতুন কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানার দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের কারণেই এই সংকট দেখা দিয়েছে।
রাজিয়া সুলতানা চলতি বছরের জুনে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মাঠপর্যায়ে তার অনুপস্থিতি এবং কৃষকদের প্রতি উদাসীনতা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিয়মিত অফিস করেন না, মাঠে যান না, কৃষকদের পরামর্শ দেন না এবং প্রশাসনিক নির্দেশনাও উপেক্ষা করেন। জেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারাও তার বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
সরকারি গাড়ির ব্যক্তিগত ব্যবহার
বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, রাজিয়া সুলতানা প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছেন পুরোপুরি ব্যক্তিগত কাজে। তার সন্তানকে স্কুল, খেলার মাঠ ও প্রাইভেট টিউটরের বাসায় আনা-নেওয়া সবই হচ্ছে সরকারি গাড়িতে। প্রতিবেদক নিজে এই তথ্যের ছবি ও ভিডিও প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন।
কৃষি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও দুর্নীতি
অভিযোগ রয়েছে, রাজিয়া সুলতানা সার ডিলারদের প্রতি উদাসীন মনোভাব পোষণ করছেন। তিনি নাকি ডিলারদের বলেছেন, সার যেখানে যেভাবে বিক্রি হোক তাতে তার মাথাব্যথা নেই, শুধু মাস শেষে তাকে ‘খাম’ দিতে হবে। ফলে সার বিতরণে বিশৃঙ্খলা ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিনি মাঠে একেবারেই যান না, অধিকাংশ দিন ১১টার পর অফিসে আসেন।
উচ্চমহলের নির্দেশনা অমান্য
জেলা কৃষি কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেনের ফোনও রাজিয়া সুলতানা গ্রহণ করেন না, এমনকি তার নির্দেশনাও মানেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, জানা গেছে তিনি খুলনার ফুলতলা থেকে যশোরে বদলি হওয়ার জন্য প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন এবং এখন সেই টাকা ওঠানোর চেষ্টা করছেন।
রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় বেপরোয়া আচরণ?
কৃষি বিভাগের অনেকে বলছেন, রাজিয়া সুলতানা ও তার স্বামী বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বেপরোয়া আচরণ করেছেন। তার স্বামী শাহিনুর রহমান দুর্নীতির অভিযোগে হরিণাকুন্ডু থেকে প্রত্যাহার হয়ে বর্তমানে মাগুরায় কর্মরত।
প্রতিবাদ ও প্রতিক্রিয়া
চুড়ামনকাটি ও লেবুতলা ইউনিয়নের কৃষকদের অভিযোগ, তারা নতুন কৃষি অফিসারকে কখনো মাঠে দেখেননি। রাজিয়া সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোনে অসহযোগিতামূলক আচরণ করেন এবং সাংবাদিককে রাত ৮.৪৮ মিনিটে অফিসে আসতে বলেন, তবে তার কোনো সদুত্তর দেননি।
জেলা কৃষি কর্মকর্তা ও যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালককেও বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

