যখনই চোখ বন্ধ করেন, ছেলের মুখটা ভেসে ওঠে—এভাবেই স্মৃতিচারণ করলেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ এস এম তৌহিদুর রহমানের মা রাশিদা বেগম।
গত বছরের ৫ আগস্ট ঢাকার আশুলিয়ায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিতে নিহত হন ২৮ বছর বয়সী তৌহিদ। তিনি যশোরের কেশবপুর উপজেলার ভালুকঘর গ্রামের বাসিন্দা এবং রাজধানীর ক্রয়ডন কাউলুন ডিজাইনস লিমিটেডে জুনিয়র স্পটম্যান পদে কর্মরত ছিলেন।
তৌহিদের আয়ে চলত পরিবারের খরচ। মা-বাবা, স্ত্রী ও তিন বছরের একমাত্র কন্যা আয়াতকে রেখে চিরবিদায় নেন তিনি। বর্তমানে তার স্ত্রী কন্যাকে নিয়ে বাবার বাড়ি কুষ্টিয়ায় রয়েছেন।
ছেলের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না মা রাশিদা বেগম। বলেন,
“ও বলেছিল, মা আমি বাড়ি আসব। কিন্তু এমনভাবে ও যে ফিরে আসবে, তা ভাবিনি। আমি এর বিচার চাই।”
তৌহিদের বাবা আব্দুর জব্বার মোল্যার গলায় ক্ষোভ,
“আমার ছেলে শান্তির জন্য জীবন দিল। কিন্তু এখনো শহীদদের স্বপ্ন পূরণ হয়নি। আমরা চাই, নাগরিক স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হোক।”
তারা চান, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জেলা পর্যায়ে গিয়ে শহীদ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ান, কথা বলেন।
সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের কেউ কেউ খোঁজখবর নিলেও বাস্তবতায় পরিবারটি চলছে অভাব আর স্মৃতির ভার নিয়ে।

