যশোরের মণিরামপুরে সম্প্রতি আটক হওয়া কয়েকজন যুবকের সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছে সংগঠনটির যশোর জেলা শাখা। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন যশোর জেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনসারুল হক রানা। তিনি বলেন, “গত ১ আগস্ট বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, মণিরামপুরে কিছু যুবক আটক হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে ‘যুবদল কর্মী’ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও, প্রকৃতপক্ষে তাদের কেউই আমাদের সংগঠনের সঙ্গে জড়িত নন।”
রানা আরও জানান, আটক আবু সিনহা একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, সাইফুল ইসলাম পেশায় ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালান, শামীমুর রহমান টুটুল মাছের আড়তের কর্মচারী এবং পলাতক ফয়সাল হুমায়ুন একজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও মাদক কারবারি। ফয়সালের পিতা গাউসুল মোস্তাক মণিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক। আটক অপর যুবক আলম খানও যুবদলের সদস্য ছিলেন না।
তিনি অভিযোগ করেন, “যুবদলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এসব মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে।” একই সঙ্গে তিনি দোষী মহলের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম. তমাল আহম্মেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক কবির হোসেন বাবু, আমিনুর রহমান মধু, নাজমুল হোসেন বাবুল, আরিফুল ইসলাম আরিফ, রবিউল ইসলাম রবি ও কামরুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাতে যশোরের মণিরামপুর পৌর এলাকার গরুহাট মোড়ের আবাসিক হোটেল ‘রজনী নিবাস’-এ অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় একটি খেলনা পিস্তল ও ধারালো ছুরি জব্দসহ চারজনকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় হোটেল মালিক গাউসুল মোস্তাকের ছেলে ফয়সাল হুমায়ুন পালিয়ে যায়। পরদিন শুক্রবার পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।

