বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আজ শনিবার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দলটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জাতীয় সমাবেশ। দুপুর ২টা থেকে শুরু হওয়া এই সমাবেশ ঘিরে দেশজুড়ে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন প্রস্তুতি।
দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সারাদেশ থেকে প্রায় ১০ লাখ নেতা-কর্মী এই সমাবেশে অংশ নিতে রাজধানীতে আসছেন। তাদের জন্য ভাড়া করা হয়েছে ১০ হাজারের বেশি বাস, সংরক্ষিত হয়েছে একাধিক লঞ্চ ও তিনটি বিশেষ ট্রেন।
সমাবেশকে ঘিরে দেশজুড়ে চালানো হয়েছে জোরদার প্রচারাভিযান। ব্যানার-ফেস্টুন, মাইকিং, মিছিল, পথসভা এবং লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে ব্যাপক গণসচেতনতা। এতে অংশ নিয়েছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয়, মহানগর, জেলা ও থানা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
দলটির ভাষ্য মতে, এই জাতীয় সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে জনমত গড়ে তোলা। উল্লেখযোগ্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- ২০২৪ সালের ৫ আগস্টসহ অতীতের সব গণহত্যার বিচার;
- রাষ্ট্রের সর্বস্তরে মৌলিক সংস্কার;
- ঐতিহাসিক জুলাই সনদের বাস্তবায়ন;
- জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পুনর্বাসন;
- প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন চালু;
- প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা;
- সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, এই কর্মসূচিতে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া সব রাজনৈতিক দল ও নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
সমাবেশে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় থাকছে ৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক। উত্তরবঙ্গ থেকে আসবে দেড় হাজারের বেশি বাস, বিশেষ ট্রেন চলবে রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ রুটে। নদীপথে অংশগ্রহণকারীদের জন্য রিজার্ভ করা হয়েছে একাধিক লঞ্চ।
সমাবেশস্থলে থাকবে ১৫টি মেডিক্যাল বুথ, প্রতিটিতে থাকবেন এমবিবিএস চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রসহ অ্যাম্বুলেন্স সেবা। এছাড়া থাকছে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা, স্ট্যান্ডবাই বিদ্যুৎ জেনারেটর, বিশ্রামাগার, গ্রিনরুম এবং বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা।
যদিও মূল কার্যক্রম শুরু হবে দুপুর ২টায়, তবে আয়োজকদের আশঙ্কা, সকাল ১০টার আগেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পরিণত হবে জনসমুদ্রে। তাই সকাল থেকেই শুরু হবে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীসহ অন্তত ২০টি সাংস্কৃতিক সংগঠন পরিবেশন করবে সংগীত, আবৃত্তি, নাটিকা ও অভিনয়।

