বগুড়ায় প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান: দাদি ও নাতবউকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

আরো পড়ুন

বগুড়ায় প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের জেরে দাদি ও নাতবউকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সৈকত হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) ভোররাতে শহরের খান্দার এলাকায় পাসপোর্ট অফিসের পাশে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

সৈকত শহরের ইসলামপুর হরিগাড়ী এলাকার বাসিন্দা এবং সোহেল ইসলামের ছেলে। গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা ডিবি পুলিশের ইনচার্জ ইকবাল বাহার। তিনি জানান, গ্রেপ্তার এড়াতে সৈকত আত্মগোপনে ছিল এবং তার অবস্থান পরিবর্তন করে গা-ঢাকা দিয়েছিল। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলছে।

এর আগে বুধবার (১৬ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বগুড়া পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুর হরিগাড়ী এলাকায় ওই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন – স্থানীয় বাসিন্দা মৃত আব্দুল কুদ্দুস বুলুর স্ত্রী লাইলী বেওয়া (৭০) এবং তার ছেলের স্ত্রী হাবিবা ইয়াসমিন (২২)। এছাড়া এ ঘটনায় কিশোরী বন্যা (১৬) গুরুতর আহত হন। সম্পর্কে লাইলী বেওয়া বন্যার দাদি এবং হাবিবাকে তার শাশুড়ি।

নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, সৈকত দীর্ঘদিন ধরে এসএসসি পাস করা বন্যাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল এবং তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। পরিবার থেকে তা প্রত্যাখ্যান করা হলে সৈকত ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিশোধ নিতে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়।

ঘটনার রাতে সৈকতসহ ৭-৮ জন দুর্বৃত্ত ঘরে ঢুকে প্রথমে হাবিবা ইয়াসমিন এবং পরে লাইলী বেওয়াকে গলা কেটে হত্যা করে। বন্যা বাধা দিতে গেলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক লাইলী ও হাবিবাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আহত বন্যা বর্তমানে চিকিৎসাধীন।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ