যশোর সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়নের জামতলায় ৫৫ বছরের পুরনো একটি ঈদগাহ রাতের আঁধারে দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে খাস জমিতে স্থাপিত ঈদগাহে নিয়মিত ঈদের নামাজ আদায় করা হলেও সম্প্রতি একদল প্রভাবশালী ব্যক্তি মিনার ভেঙে জমি দখলে নিয়েছেন এবং সেখানে থাকা মূল্যবান গাছ কেটে বিক্রি করে দিয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘সুজলপুর জামতলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ’ হিসেবে পরিচিত সাত শতক জমিটি ১৯৭১ সালের আগে পাচু ঋষির নামে রেকর্ডভুক্ত ছিল। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি ভারতে চলে গেলে জমিটি সরকার খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করে। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা জমিটি দখলের চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি। তবে সম্প্রতি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সোহরাব হোসেন ও তার সহযোগীরা জমিটি দখলে নেন বলে অভিযোগ ওঠে।
সূত্রে জানা যায়, জমিটি প্রথমে স্থানীয় মেহের ভান্ডারীর ছেলেদের নামে দখলে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। পরে বিএনপি নেতা সোহরাব হোসেন ও সেলিম বিশ্বাস তাদের কাছ থেকে ‘বায়না’ সূত্রে জমি অধিগ্রহণ করেন বলে দাবি করেন। এরই অংশ হিসেবে রাতের আঁধারে ঈদগাহের মিনার ভেঙে সরিয়ে ফেলা হয় এবং সেখানে থাকা মেহগনি গাছ কেটে ফেলা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব কাজ করা হয় জাল দলিল এবং একতরফা কাগজপত্রের ভিত্তিতে।
ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলাম জানান, ২০১৪ সালে জেলা প্রশাসকের অনুমতিক্রমে ঈদগাহ হিসেবে জমিটির ব্যবহার নিশ্চিত করা হয় এবং সেখানে স্থায়ী মিনার স্থাপন করা হয়। তিনি বলেন, “এটি সরকারি খাস জমি এবং জেলা প্রশাসনের অনুমোদিত ঈদগাহ। একটি প্রভাবশালী মহল জাল কাগজপত্র দেখিয়ে জমিটি দখল করে নিয়েছে, যা গ্রামবাসী মেনে নিতে পারছে না।”
অভিযোগ প্রসঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সোহরাব হোসেন দাবি করেন, “এই জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলছিল এবং ২০২২ সালে রায়ে মেহের ভান্ডারীর উত্তরসূরিদের বৈধ মালিক হিসেবে ঘোষণা করা হয়। আমরা তাদের কাছ থেকে জমিটি বায়না সূত্রে কিনেছি।”
এদিকে, যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমি অবগত নই। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি দলীয়ভাবে খতিয়ে দেখা হবে।”
যশোর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত ইয়াসমিন বলেন, “সরকারি খাস জমি দখল বা বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

