যশোরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোডে ড্রেন নির্মাণে ধীরগতি ও অব্যবস্থাপনায় জনদুর্ভোগ চরমে

আরো পড়ুন

: যশোর শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোডে পৌরসভার আওতায় চলমান ড্রেন নির্মাণকাজ এখন স্থানীয়দের কাছে যেন এক যন্ত্রণার নাম। গলির ড্রেন সংস্কারের দায়িত্ব নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মূল সড়কের একটি বড় অংশ দখল করে ফেলেছে। অর্ধেকের বেশি রাস্তা ও পুরো ফুটপাতজুড়ে পড়ে রয়েছে ইট, পাথর ও বালিসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী। ফলে সাধারণ রিকশা চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে এবং প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের গতি যেমন ধীর, তেমনি পরিকল্পনাহীনভাবে মালামাল সড়কে ফেলে রাখায় সৃষ্টি হয়েছে যানজট ও জনদুর্ভোগ। তারা জানান, দিনরাত মালামাল সড়কে পড়ে থাকলেও সপ্তাহের পর সপ্তাহ কাজের তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। অভিযোগ করেও মিলছে না সমাধান বা কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ।

সোমবার সরেজমিনে ফুড অফিস মোড় থেকে কবরস্থান মোড় পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, রাস্তায় বিশাল আকারে স্তূপ করে রাখা হয়েছে নির্মাণসামগ্রী। এমনকি ফুটপাতেও চলাচলের সুযোগ নেই। এক নজরে মনে হতে পারে এটি যেন কোনো নির্মাণ সামগ্রীর গুদাম।

এক অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘একটি বাই-লেনের ড্রেনের কাজ করলেও মূল সড়ক দখল করে মালামাল রাখা হয়েছে। বারবার নিষেধ করার পরও কাজের নিয়ম মানা হচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষ হেঁটে চলতেও ভোগান্তিতে পড়ছেন।’

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণাধীন ড্রেনে জমে আছে হাঁটুসমান পানি। সেখানে উপস্থিত ছিলেন তিনজন কর্মী, যাদের একজন উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত রাস্তা পরিষ্কার করার চেষ্টা করেন। কথা বললে তারা জানান, ‘আমরা যা করছি, তা ঠিকাদার ও ইঞ্জিনিয়ারের নির্দেশে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী সুজন বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানতাম না, এখন দেখছি।’ এরপর তিনি ফোন কেটে দেন এবং পরবর্তী সময়ে আর ফোন রিসিভ করেননি।

এদিকে যশোর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী বিএম কামাল আহম্মদ বলেন, ‘ওই রাস্তার কাজ নিয়ে আগেও বেশ কয়েকবার সালিশ হয়েছে। আমি কিছু বলতে পারছি না।’
পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা উত্তম কুমার কুন্ডু বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই।’

তবে যশোর পৌর প্রশাসক রফিকুল হাসান গ্রামের কাগজকে জানান, ‘সড়ক দখলের বিষয়ে একাধিক অভিযোগ পেয়েছি। ঠিকাদারকে মালামাল সরিয়ে চলাচলের উপযোগী রাস্তা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ তিনি জানান, কাজের জায়গা নির্ধারণ নিয়ে স্থানীয়ভাবে কিছু জটিলতা রয়েছে। বিষয়টি সমাধানে স্থানীয়দের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ