আজ শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব—শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা। প্রতি বছর আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে এই মহোৎসব উদযাপিত হয়। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নানা আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নয়দিনব্যাপী এই উৎসব পালিত হবে ঢাকাসহ দেশের ১২৮টি ইসকন মন্দির ও আশ্রমে।
এবারের রথযাত্রা শেষ হবে আগামী ৫ জুলাই ‘উল্টোরথ’ যাত্রার মাধ্যমে, যা ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে স্বামীবাগ আশ্রমে ফিরে আসবে।
উৎসব উপলক্ষে ঢাকার স্বামীবাগস্থ ইসকন কেন্দ্রীয় আশ্রমে আয়োজন করা হয়েছে হরিনাম সংকীর্তন, অগ্নিহোত্র যজ্ঞ, মহাপ্রসাদ বিতরণ, পদাবলী কীর্তন, আরতি, ধর্মীয় নাটক, ভগবত কথা, গীতা পাঠ ও ধর্মীয় চলচ্চিত্র প্রদর্শনীসহ নানাবিধ অনুষ্ঠানমালা।
আজ সকাল ৮টায় অগ্নিহোত্র যজ্ঞের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় রথযাত্রা উৎসব। দুপুর দেড়টায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা শেষে বিকেল ৩টায় স্বামীবাগ আশ্রম থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু হয়।
ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক চারুচন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী জানান, শোভাযাত্রাটি স্বামীবাগ আশ্রম থেকে শুরু হয়ে জয়কালী মন্দির, ইত্তেফাক মোড়, শাপলা চত্বর, দৈনিক বাংলা মোড়, বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট, পল্টন মোড়, জাতীয় প্রেস ক্লাব, কদম ফোয়ারা, হাইকোর্ট মাজার, দোয়েল চত্বর, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, জগন্নাথ হল, পলাশী মোড় হয়ে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গিয়ে শেষ হবে।
৫ জুলাই বিকেল ৩টায় একই পথ হয়ে রথটি ‘উল্টোরথ’ হিসেবে স্বামীবাগ আশ্রমে ফিরে আসবে।
এ ছাড়া পুরান ঢাকার তাঁতীবাজারের জগন্নাথজিউ ঠাকুর মন্দির, জয়কালী রোডের রামসীতা মন্দির, শাঁখারীবাজার একনাম কমিটিসহ রাজধানীর বিভিন্ন মন্দিরেও পালিত হবে রথযাত্রা। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার ইসকন মন্দিরগুলোতেও ধর্মীয় উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন চলবে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, ‘জগৎ’ অর্থ বিশ্ব আর ‘নাথ’ অর্থ ঈশ্বর। সেই অর্থে জগন্নাথদেব হচ্ছেন জগতের অধীশ্বর। তার অনুগ্রহ লাভের মাধ্যমে জীব মোক্ষ বা মুক্তি লাভ করে—পুনর্জন্মের চক্র থেকে মুক্ত হয়। এই বিশ্বাস থেকেই তার মূর্তি রথে স্থাপন করে আড়ম্বরপূর্ণভাবে রথযাত্রা পালন করা হয়।

