ভাইরাল ভিডিও নিয়ে বিতর্কে শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক, তদন্তের দাবি

আরো পড়ুন

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন-এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনার ঝড়। শুক্রবার (২১ জুন) সকাল থেকেই ভিডিওটি টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটিকে অনেকেই “আপত্তিকর” বলে আখ্যায়িত করছেন এবং জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন।

অনেকেই দাবি করেছেন, ভিডিওতে থাকা নারী জেলা প্রশাসকের স্ত্রী হতে পারেন। তবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা এ দাবি নাকচ করে জানিয়েছেন, ভিডিওতে দেখা যাওয়া নারী তার স্ত্রী নন

সাবেক প্রবাসী সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর ফেসবুকে প্রথম ভিডিওটির প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি একটি ছবি সংযুক্ত করে লেখেন,

“শরীয়তপুরের ডিসি মো. আশরাফ উদ্দিন। একজন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তা। ছবির ওনাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। এখন বিয়ে না করে হুমকি দিচ্ছেন।”

এই পোস্টের পর থেকেই ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং জনমনে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তবে ভিডিওটি কোথায় ধারণ করা হয়েছে এবং নারীর পরিচয় এখনো নিশ্চিত নয়।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একজন নারী কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,

এ বিষয়ে বারবার চেষ্টা করেও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রশাসনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে এবং প্রয়োজনে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করা হবে।

জানা গেছে, আশরাফ উদ্দিন ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগ দেন। তিনি ২৭তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা এবং এর আগে প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ও নিউরো-ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্টে পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বিশ্বস্ত সূত্রে আরও জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি ভাড়া করা গাড়িতে শরীয়তপুর ত্যাগ করেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আসলাম হোসাইন জানান,

“বিকেলে ডিসি স্যার বাসায় ফিরেছিলেন, তবে বর্তমানে তিনি শরীয়তপুরে নেই। তার অবস্থান সম্পর্কে আমার জানা নেই।”

এদিকে, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান বলেন,

“একজন জেলা প্রশাসকের এমন ভিডিও ভাইরাল হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা বিভাগীয় তদন্ত ও উপযুক্ত ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছি।”

বিষয়টি এখন প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক ও সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। তদন্ত ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে এখন শরীয়তপুরবাসী।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ