২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ হাজার কোটি টাকা কম। স্বাধীনতার পর এই প্রথমবারের মতো জাতীয় বাজেটের আকার সংকুচিত হলো। তবে বাজেট কমলেও রাজস্ব বাড়াতে বেশ কিছু পণ্যে বাড়ানো হয়েছে শুল্ক, ভ্যাট, সারচার্জ ও উৎস কর—ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আজ সোমবার বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি বাজেট ঘোষণা করবেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষায় এবার ব্যয় সংকোচনমূলক বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
চলতি বাজেটে (২০২৪-২৫) মোট ব্যয় ছিল ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। নতুন বাজেটে পরিচালন খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা, যা গতবার ছিল ৫ লাখ ৬ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা। উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ কমিয়ে ২ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যেখানে আগের বাজেটে ছিল ২ লাখ ৮১ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা।
যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে
ফ্রিজ ও এসি:
বর্তমানে এসি ও ফ্রিজে ৭.৫% ভ্যাট থাকলেও নতুন বাজেটে তা বাড়িয়ে ১৫% করার প্রস্তাব রয়েছে। ফলে দাম বাড়বে।
দেশীয় মোবাইলফোন:
মোবাইলফোন উৎপাদনে ক্যাটাগরি অনুসারে ভ্যাট ২ থেকে ২.৫% পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে, এতে স্থানীয় মোবাইলের দাম বাড়বে।
মোটরসাইকেল:
মোটরসাইকেল ও যন্ত্রাংশে আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট বাড়ানো হতে পারে। ফলে দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিদেশি কসমেটিকস:
লিপস্টিক, ফেসওয়াশ, মেকআপ সামগ্রীর শুল্কায়ন মূল্য দ্বিগুণ করা হতে পারে। ফলে দাম বাড়বে।
বিদেশি খেলনা ও চকলেট:
বিদেশি খেলনা ও চকলেটের ট্যারিফ মূল্য বাড়ানো হচ্ছে। চকলেটের ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য ৪ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১০ ডলার করার প্রস্তাব রয়েছে।
একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পণ্য:
প্লাস্টিক কাপ, প্লেট, বাটি ইত্যাদির ওপর ভ্যাট ১৫% করা হতে পারে।
অন্যান্য পণ্য:
ব্লেড, রড, সিগারেট পেপার, ব্যাটারি, টেবিলওয়্যার, সুতা, হেলিকপ্টার, মার্বেল-গ্রানাইট, স্ক্রু-নাট-বল্টু, ইলেকট্রিক হার্ডওয়্যার, দরজার তালা, কোটেড পেপার, মাতৃ খাদ্য, বেভারেজসহ বেশ কিছু পণ্যের দাম বাড়তে পারে।
সেবা খাতে প্রভাব:
কনভেনশন হল ও কনফারেন্স সেন্টারের সেবায় উৎসে কর দ্বিগুণ করার প্রস্তাব রয়েছে।
বাণিজ্যিক মোটরযানে অগ্রিম কর ও ব্যক্তিগত গাড়িতে সারচার্জ বাড়ানোর সম্ভাবনা আছে।
মোবাইল টাওয়ার শেয়ারিং কোম্পানির আয়ে ২০% হারে উৎসে কর আরোপের প্রস্তাব থাকায় টেলিযোগাযোগ খরচও বাড়তে পারে।
অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, এবার বাস্তবায়নযোগ্য, মিতব্যয়ী ও মুদ্রানীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বাজেট উপস্থাপন করা হচ্ছে। তবে সাধারণ ভোক্তাদের জন্য বাজেটের চাপ কিছুটা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

