যশোরের চৌগাছায় কিশোর হেলপার মিরাজ হোসেন চয়নকে হত্যা ও মরদেহ গুমের মামলায় মাইক্রোবাস চালক রাজু হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ দশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও দেড় বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ মে) যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক এসএম আশিকুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান খান।
দণ্ডপ্রাপ্ত রাজু হোসেন যশোরের চৌগাছা উপজেলার বহিলাপোতা গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত ইসমাইল হোসেন মণ্ডলের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, নিহত চয়ন দিঘলসিংহ গ্রামের সবুজ হোসেনের ছেলে। নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখার পর সে রাজু হোসেনের মাইক্রোবাসে হেলপার হিসেবে কাজ শুরু করে। ২০২২ সালের ১২ জুন রাত ৮টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে পিকনিকে যাওয়ার কথা বলে চয়ন বাড়ি থেকে বের হয় এবং ওই রাতে রাজুর সঙ্গেও মোবাইল ফোনে কথা বলে। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল।
পরদিন সকালে স্বজনেরা খোঁজাখুঁজি শুরু করলে জানতে পারেন, চৌগাছার মাধবপুর এলাকার ধোনারখাল কপোতাক্ষ নদের পাড়ে একটি বস্তাবন্দি মরদেহ পাওয়া গেছে। পরে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে মরদেহটি চয়নের বলে শনাক্ত করেন।
১৪ জুন নিহত চয়নের বাবা চৌগাছা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি প্রাথমিকভাবে থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরে তা পিবিআই-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই’র এসআই শরীফ এনামুল হক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজন রাজুকে গ্রেফতার করেন। জিজ্ঞাসাবাদে রাজু হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
জবানবন্দিতে রাজু জানান, ১২ জুন রাত দুটোর দিকে তিনি চয়নের ওপর বলাৎকারের চেষ্টা করেন। বাধা দিলে গামছা পেঁচিয়ে ও গলাটিপে তাকে হত্যা করেন। পরে মরদেহটি একটি বস্তায় ভরে সঙ্গে দুটি ইট দিয়ে নদীতে ফেলে দেন।
তদন্ত শেষে পিবিআই আদালতে রাজুর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। বিচার প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় প্রদান করেন।
জাগো/ মেহেদী

