যশোরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে প্রবাসীর মৃত্যু, আটক ৬

আরো পড়ুন

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে এক প্রবাসী নিহত হয়েছেন এবং তার বড় ভাই গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহত আশাদুল হক আশা (৪০) গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের বালিয়া গোরশুটি গ্রামের বাসিন্দা এবং আতাউল হক মোড়ল ওরফে আতাল ময়রার ছেলে। আহত তার ভাই মহিদুল ইসলাম (৪২) যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১০ মে) সন্ধ্যায় গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের ছুটিপুর জামতলা মোড়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ইউনিয়নের দুটি বিএনপি গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতা নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল। সংঘর্ষের দিন সন্ধ্যায় আশা ও মহিদুল তাদের সমর্থকদের নিয়ে ছুটিপুর বাজারে অস্ত্রসহ মহড়া দেয়। তবে স্থানীয়দের বাধায় তারা পিছু হটে।

পরবর্তীতে দলীয় কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় কাগমারী গ্রামের আহম্মদ আলীর ছেলে বিপ্লব, গঙ্গানন্দপুরের রমজানের ছেলে নশু, জিওলিগাছার হাতেম আলীর ছেলে সিরাজ এবং কাগমারীর লুৎফর খাঁর ছেলে মোহর হামলা চালিয়ে তাদের গুরুতর আহত করে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পথে আশার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় একজন, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, জানান—আশা দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন এবং দেশে ফিরে নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। প্রতিপক্ষের সদস্যরাও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

নিহতের বড় ভাই শহিদুল ইসলাম বলেন, “আমার ভাই ওমানে ছিল। এলাকায় ফিরে দলীয় কার্যালয় স্থাপন করাকে কেন্দ্র করে বিরোধ শুরু হয়। প্রতিপক্ষ তাকে কুপিয়ে হত্যা করে।”

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন জানান, “নিহত ও হামলাকারীরা কেউই দলীয় পদে নেই, তবে সবাই বিএনপির কর্মী। বিষয়টি দুঃখজনক। দলে শৃঙ্খলা ফেরাতে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঝিকরগাছা থানার ওসি মো. বাবলুর রহমান খান জানান, নিহত আশার বোন নাসিমা বেগম বাদী হয়ে ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেছেন। ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ