নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালী সদর উপজেলার চর মটুয়া ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আহমদ উল্লাহ রিংকুর একটি ভয়েস রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তাকে সৌদি প্রবাসী জুয়েল নামের এক ব্যক্তির কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করতে শোনা যায়।
প্রায় এক মিনিট পাঁচ সেকেন্ড দীর্ঘ ওই ফোনালাপটি গত বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) বিকেল থেকে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। রেকর্ডে রিংকুকে বলতে শোনা যায়, “অন বন্ধু, তুই আর সাথে আওয়ামী লীগ বিএনপি মিলাইচ্ছা। টেয়া পঞ্চাশ হাজার হাডা। সাদ্দামের থেকে টেয়া কিছু লও… তোরে আই জীবনেও কিছু করিন। সাদ্দামারে আই আজায়ালামু, মার্কেট আউট করি আলামু…”।
জানা গেছে, গত ২৩ মার্চ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নোয়াখালীর ৩৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের কমিটি অনুমোদন দেন। এর মধ্যে চর মটুয়া ডিগ্রি কলেজের ২৪ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে রিংকুকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
ভুক্তভোগী জুয়েল জানান, তিনি পূর্ব চর মটুয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং ছয় মাস আগে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরব যান। তার চাচা সাদ্দাম স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে কিছুটা সম্পৃক্ত। তিনি অভিযোগ করেন, রিংকু তার চাচাকে এলাকা ছাড়ার হুমকি দিয়ে তার (জুয়েলের) কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ও একটি মোটরসাইকেল দাবি করেন। না দিলে দেশে ফিরে মারধরের হুমকিও দেন।
চর মটুয়া ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি সাজ্জাদুর রহমান শাহীন বলেন, “রেকর্ডে যে কণ্ঠ শোনা যায় তা রিংকুরই, এতে সন্দেহ নেই। আমি নিজেও ওই রেকর্ড অনেকবার শুনেছি, অনেকেই আমাকে পাঠিয়েছে। রিংকুকে বারবার ফোন দিলেও সে সাড়া দেয়নি। পরে ফোনে সে শুধু বলেছে, ভাইয়া আমি এখন কী করতাম।”
তিনি আরও বলেন, “আমি ভুক্তভোগী প্রবাসীর সাথেও কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন, এটা মজা করে নয়, বরং সরাসরি হুমকি ছিল।”
রিংকুর বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি শাহীন জানান, রিংকু দাবি করেছে, রেকর্ডে থাকা কণ্ঠ তার নয়। তবে শাহীনের মতে, রেকর্ডের কণ্ঠ রিংকুর সঙ্গে মিলে যায়।
নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী মো. রাসেল বলেন, “বিষয়টি জানার পর আমি রিংকুকে অনেকবার ফোন দিয়েছি, কিন্তু সে রিসিভ করেনি। পরে কলেজ ছাত্রদলের সভাপতির সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, কণ্ঠ রিংকুর কিনা তা সে নিশ্চিত না হলেও মিল রয়েছে।”

