সরকারি রাস্তার নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিওচিত্র ধারণ করায় যশোরের মনিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম জিন্নাহ সাংবাদিক আনোয়ার হোসেনকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও নৌকা প্রতীকের নির্বাচিত চেয়ারম্যান।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাত ১০টা ৫২ মিনিটে। সাংবাদিক আনোয়ার হোসেনের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে কল করে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন চেয়ারম্যান। হুমকির পর থেকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দৈনিক আজকের পত্রিকার মনিরামপুর প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন।
আনোয়ার জানান, সম্প্রতি খেদাপাড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রঘুনাথপুর গ্রামের মোহন্ততলা মন্দিরমুখী কাঁচা রাস্তায় ইট সলিংয়ের কাজ হয়, যার তদারকিতে ছিলেন চেয়ারম্যান নিজেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজটি নিম্নমানের ইট দিয়ে করা হয়েছে এবং কয়েক দিনের মধ্যে ইট ভেঙে যায়। সরেজমিন তদন্তে গিয়ে আনোয়ার ভিডিও ধারণ করেন।
পরদিন ইউপি সদস্য মুনসুর আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনিও নিম্নমানের ইট ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করেন। এ বিষয়ে চেয়ারম্যান জিন্নাহর কাছে জানতে চাইলে তিনি অসংলগ্ন উত্তর দেন। আনোয়ার ভিডিওটি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সাইফুল ইসলামকে পাঠালে চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে ফোনে গালাগাল ও হত্যার হুমকি দেন।
এ বিষয়ে মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর মোহাম্মদ গাজী বলেন, “চেয়ারম্যানের হুমকির অডিও রেকর্ড শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সাংবাদিক আনোয়ার আরও বলেন, চেয়ারম্যান জিন্নাহ এর আগে পাঁচবার নির্বাচন করে সর্বশেষে জয়ী হয়ে চেয়ারম্যান হন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি বিভিন্ন ভাতার নামে অর্থ বাণিজ্যে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। গত বছর প্রতিবন্ধী ভাতার বই ও আঙুলের ছাপ নেওয়ার সময় উপকারভোগীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে আজকের পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ জমা পড়ে। তদন্ত শেষে উপকারভোগীদের টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন চেয়ারম্যান। তখন থেকেই সাংবাদিক আনোয়ারের ওপর ক্ষুব্ধ হন তিনি।

