পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে যশোরের ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলামকে হত্যা করে লাশ মাটিচাপা দিয়ে গুম করেছেন রবিউল ইসলাম সবুজ। সোমবার (২৮ এপ্রিল) আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান তিনি।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত সবুজ ছাড়াও তার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা, শ্বশুর খোকন মোল্লা ও সহযোগী রিপনকে আটক করে আদালতে হাজির করলে বিচারক চারজনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ জানায়, শংকরপুর এলাকার একটি বাড়িতে সবুজ ও রেজাউল ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন। ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সুবাদে রেজাউল মাঝে মধ্যে সবুজের কাছ থেকে টাকা ধার নিতেন। গত ২২ এপ্রিল গভীর রাতে পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়, একপর্যায়ে সবুজ রেজাউলকে গলা টিপে হত্যা করেন।
পরে স্ত্রীর সহায়তায় লাশ পলিথিনে মুড়িয়ে শ্বশুরের বাড়ির পাশে একটি বাগানে মাটি চাপা দেন সবুজ। পরদিন খোকন মোল্লা সন্দেহভাজন মাটি খুঁড়ে লাশ পেয়ে পাশের একটি মাছের ঘেরে কাঁদা মাটিতে পুনরায় পুঁতে রাখেন। ২৬ এপ্রিল নিহতের স্ত্রী থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং ২৭ এপ্রিল সাতক্ষীরার আশাশুনি থেকে লাশ উদ্ধার করে।
এদিকে রিপনের স্ত্রী শাহনাজ পারভীন যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেন, তার স্বামী নির্দোষ এবং ষড়যন্ত্রের শিকার। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সবুজ ও রিপন দুজনেই বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত খান বলেন, ঘটনার তদন্তে একাধিক পুলিশ টিম কাজ করেছে। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে সবুজ খুনের দায় স্বীকার করেছেন এবং জানিয়েছেন এটি ছিল টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিরোধের ফল।

