যশোরে চেতনানাশক মিশিয়ে বাড়িওয়ালার পরিবারকে অজ্ঞান করে ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট:

আরো পড়ুন

যশোর সদর উপজেলার রামনগর কুলুপাড়া গ্রামে খাবারে চেতনানাশক মিশিয়ে বাড়িওয়ালার পুরো পরিবারকে অজ্ঞান করে মূল্যবান মালামালসহ চম্পট দিয়েছে নতুন ভাড়াটিয়ারা। বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় এখনো একজনের জ্ঞান ফেরেনি।

অচেতন অবস্থায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—বাড়ির মালিক মৃত রোস্তম আলীর স্ত্রী নাসরিন সুলতানা বেবি (৫২), তার ছেলে নাজমুস সাদিক অন্ত (২৫), পুত্রবধূ সাবিয়া খানম (২০), নাসরিনের মা শুকুরোন নেছা (৬০) এবং অপর ভাড়াটিয়া ওহিদুজ্জামান মামুন (২৫)।

নাসরিন সুলতানা জানান, দুই দিন আগে তিন নারী ও দুই পুরুষ মিলে তাদের বাড়িতে ওঠেন। একজন নিজেকে ‘আমজাদ হোসেন’ নামে পরিচয় দেন এবং দাবি করেন তারা মাছ ব্যবসায়ী। তাদের ব্যবহার ভদ্র হওয়ায় তিনি বাড়ি ভাড়া দেন, তবে কোন জাতীয় পরিচয়পত্র নেননি।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সেই ‘আমজাদ’ মসজিদে মিলাদ দিয়ে রাতে সবাইকে খাওয়ার দাওয়াত দেন। ভাড়াটিয়া ও পরিবারের সদস্যরা খাওয়া শেষে যার যার ঘরে চলে যান। এরপরই সবাই অচেতন হয়ে পড়েন।

পরদিন সকালে দরজা খোলা দেখে প্রতিবেশীরা ঘরে ঢুকে তাদের অচেতন অবস্থায় পান এবং হাসপাতালে ভর্তি করেন। জানা যায়, ভাড়াটিয়ারা স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে পালিয়েছে।

যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন। এখনো মামলা হয়নি তবে একটি অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে ভাড়া দেওয়া এবং ভাড়াটিয়ার বাসায় দাওয়াত খাওয়া বাড়ির বড় ভুল ছিল।”

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীদের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল হলেও সাদিক অন্তর নামে একজনের এখনও জ্ঞান ফেরেনি।
ঘটনার তদন্ত ও অভিযুক্তদের শনাক্তে পুলিশের অভিযান চলছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ