ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাসে দুশ্চিন্তায় যশোরের কৃষকরা, বাম্পার ফলনের মাঝেই মাথার উপর কালো মেঘ

আরো পড়ুন

মাঠে পাকা ধান, তবে আকাশে মেঘ আর ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাসে চরম দুশ্চিন্তায় যশোরের কৃষকরা। চলতি এপ্রিল মাসেই জেলার প্রায় ৮০ ভাগ বোরো ধান কাটা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, এখনো মাঠে রয়েছে বিশাল পরিমাণ ফসল। হঠাৎ আবহাওয়ার এই পরিবর্তন তাই কৃষকের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে।

যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৫৭ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে উফশি জাত রয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ১৫০ হেক্টর এবং হাইব্রিড ২৫ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে। ধানের সম্ভাব্য উৎপাদন ধরা হয়েছে ১০ লাখ ৯২ হাজার ৪৬৫ মেট্রিক টন, যা থেকে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৭ লাখ ২৮ হাজার ৩১০ মেট্রিক টন।

এপ্রিলে কোনো ভারী বৃষ্টি বা ঝড় না হলে এই বাম্পার ফলন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তবে কৃষকদের শঙ্কা, দীর্ঘ সময় বৃষ্টি হলে বা শিলা বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে ধান পড়ে গিয়ে তার মান নষ্ট হতে পারে। এমনকি জমিতে পানি জমে গেলে ধানে কল চলে আসার আশঙ্কাও রয়েছে।

খাজুরা এলাকার চাষি রোস্তম সর্দার বলেন, “রোদ উঠলে সব ঠিক, কিন্তু হঠাৎ ঝড় আসলে বুক কেঁপে ওঠে। মাঠে পাকা ধান, একটা বাতাসেই সব মাটি হয়ে যেতে পারে।”
মণিরামপুরের চাষি ইয়াকুব মোড়ল বলেন, “পানি জমে গেলে ধান নষ্ট হয়ে যাবে। ধান গাদায় রেখেছি, সেখানে পানি উঠলে চালের রংও নষ্ট হবে।”

কৃষি বিভাগের উপপরিচালক ড. মোশাররফ হোসেন জানান, “বৃষ্টিপাত হচ্ছে ঠিকই, তবে এখনো বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই। যদি শিলা বৃষ্টি বা ঝড় না হয়, তাহলে ফলন ঠিক থাকবে। তবে ভবদহ এলাকায় নিচু জমিতে বৃষ্টির কারণে পানি জমে গেলে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, যশোরে জমির উচ্চতা ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা তুলনামূলক ভালো হওয়ায় স্বাভাবিক বৃষ্টিতে তেমন ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কৃষকদের সতর্ক করা হয়েছে—পাকা ধান দ্রুত ঘরে তোলার জন্য।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার গতির ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে বাম্পার ফসলের আশা থাকলেও, শেষ মুহূর্তে প্রকৃতির খামখেয়ালিপনায় চিন্তার ভাঁজ পড়েছে কৃষকের কপালে। এখন একমাত্র ভরসা—রোদেলা আকাশ আর স্বাভাবিক আবহাওয়া।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ