জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের ফেসবুক পোস্ট নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বিতর্ক। সাম্প্রতিক সেনানিবাস বৈঠক প্রসঙ্গে হাসনাত আবদুল্লাহর দেওয়া এক স্ট্যাটাসের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন সারজিস আলম, যা নিয়ে দলে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে দ্বিমত
হাসনাত আবদুল্লাহ তার ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, সেনানিবাসে তাকে ও আরও দুইজনকে ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে আজ রবিবার (২৪ মার্চ) সারজিস আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এই দাবির সঙ্গে ভিন্নমত প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সেনাপ্রধানের সঙ্গে তাদের বৈঠক হয়েছিল, তবে ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ গঠনের বিষয়ে কোনো চাপ ছিল না। বরং সেনাপ্রধান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে তার অভিমত প্রকাশ করেছিলেন।
সারজিস আলম আরও বলেন, হাসনাত যেভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন, তা পুরোপুরি সঠিক নয়। তার মতে, সেনাপ্রধানের বক্তব্যকে হাসনাত ‘প্রস্তাব’ হিসেবে দেখলেও, তিনি একে ‘অভিমত’ হিসেবেই দেখছেন।
হান্নান মাসুদের মন্তব্য
এই পরিস্থিতিতে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসুদও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি ফেসবুক কমেন্টে লিখেছেন, “এসব কি ভাই!! পাবলিকলিই বলছি- দুইজনের একজন মিথ্যে বলছেন। এটা চলতে পারে না। দলীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও আপনারা ব্যক্তিগতভাবে যে মন্তব্য করছেন, তা এনসিপিকেই বিতর্কিত করছে।”
দলের মধ্যে ফাটল?
হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম দুজনই জুলাই আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন এবং এতদিন তাদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা যায়নি। তবে সাম্প্রতিক সেনাবাহিনীর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি ফেসবুকে তুলে আনার কারণে এনসিপির রাজনৈতিক পরিপক্কতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেনাবাহিনীর মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতে নেতাদের এই ধরনের বক্তব্য দলের মধ্যে বিভাজন তৈরি করতে পারে এবং এনসিপির রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে জনমনে আস্থার সংকট সৃষ্টি হতে পারে।

