পুলিশ পরিচয়ে চাঁদাবাজির শিকার ইউপি মেম্বার, পরদিন মিলল মরদেহ

আরো পড়ুন

 কালীগঞ্জ উপজেলায় ইউপি মেম্বার আমিনুল ইসলাম (৫০) পুলিশের নামে চাঁদার ভয়ভীতি পাওয়ার পর রাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান এবং আর ফিরে আসেননি। পরদিন সকালে তার মরদেহ পাওয়া যায় একটি ধানক্ষেতের পাশের ড্রেনে।

নিহতের মেয়ে আফরোজা খাতুন থানায় অভিযোগ করে জানান, ১৫ মার্চ রাত ১০টা ২ মিনিটে তার বাবার মোবাইলে (০১৭২৪ ০৮২১৩২) একটি কল আসে। অপর প্রান্ত থেকে একজন নিজেকে কালীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিচয় দিয়ে বলেন, “তোমার নামে বড় একটি মামলা হয়েছে, নাম বাদ দিতে হলে দুই লাখ টাকা দিতে হবে, না হলে পুলিশ বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যাবে।” টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই ব্যক্তি গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখান। পরে আমিনুল বিষয়টি পরিবারকে জানিয়ে রাত ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। পরদিন সকালে তার মরদেহ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় নিহতের পরিবার কালীগঞ্জ থানায় অভিযোগ করলে কিছু সময় পর তারা অভিযোগটি আবার তুলে নেন।

একই কৌশলে আরও ছয়জনের কাছে চাঁদার দাবি

উক্ত রাতেই একই মোবাইল নম্বর থেকে সিমলা রোকনপুর ইউনিয়নের আরও ছয়জন ইউপি মেম্বারের কাছে ফোন যায়। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইউনুচ আলী, টিটো, মুনছুর আলী, সিদ্দিক বিশ্বাস, রাকিব হোসেন, আকবর আলী ও আমিনুল ইসলাম। প্রত্যেককে মামলার ভয় দেখিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

ইউপি মেম্বার ইউনুচ আলী জানান, রাত ৯টা ৫২ মিনিটে তার ফোনেও একই নম্বর থেকে কল আসে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, “তুই আওয়ামী লীগ করিস, তোর নামে মামলা হয়েছে, নাম খারিজ করতে হলে দুই লাখ টাকা দিতে হবে।” তিনি থানায় গিয়ে দেখা করতে চাইলে তাকে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয়।

পুলিশের বক্তব্য

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম হাওলাদার জানান, নিহতের পরিবার থানায় এসে অভিযোগ দিলেও পরে তা ফিরিয়ে নেয়। এছাড়া, যেসব নম্বর থেকে চাঁদা দাবি করা হয়েছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “পুলিশ পরিচয়ে একটি প্রতারক চক্র ঈদের আগে মানুষকে ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ