সাবেক সেনা প্রধান জানালেন আওয়ামীলীগ- বিএনপি-জামায়াতের সমঝোতার তথ্য

আরো পড়ুন

সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়ার সাম্প্রতিক ফেসবুক পোস্ট ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার বক্তব্যের মূল বিষয়বস্তু হলো ২০১৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে ছয় মাসের মধ্যে আরেকটি নির্বাচনের সমঝোতা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ রক্ষা করেনি।

বিশ্লেষণ:

১. রাজনৈতিক পটভূমি ও ২০১৪ সালের নির্বাচন

২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপির বর্জনের কারণে একতরফা হয়েছিল। নির্বাচনটি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ছাড়াই আয়োজন করেছিল, যার ফলে প্রায় ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্ররা জয়ী হয়। বিএনপি-জামায়াত জোট এই নির্বাচন প্রতিহত করতে আন্দোলন করেছিল, যা সহিংসতায় রূপ নেয়।

তৎকালীন সেনাপ্রধান হিসেবে ইকবাল করিম ভূঁইয়া এই সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, যদিও সেনাবাহিনী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেছিল। তবে তার সাম্প্রতিক মন্তব্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে একটি গোপন সমঝোতা হয়েছিল যে ছয় মাসের মধ্যে পুনরায় নির্বাচন হবে, যা বাস্তবায়ন হয়নি।

২. সমঝোতার দাবির রাজনৈতিক গুরুত্ব

সাবেক সেনাপ্রধানের এই বক্তব্য রাজনীতিতে কয়েকটি দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ:

  • বিএনপির অভিযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ: বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে যে ২০১৪ সালের নির্বাচন ছিল প্রতারণাপূর্ণ এবং আওয়ামী লীগ গোপন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে।
  • আওয়ামী লীগের অবস্থানের বিপরীত: আওয়ামী লীগ বরাবরই বলে আসছে, ২০১৪ সালের নির্বাচন সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার অংশ ছিল এবং এর মাধ্যমে সরকার বৈধভাবে গঠিত হয়েছে।
  • নিরপেক্ষতার প্রশ্ন: সাবেক সেনাপ্রধান হিসেবে ইকবাল করিম ভূঁইয়ার বক্তব্য সামরিক বাহিনীর নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলতে পারে।

৩. ২০০৬-২০০৮ সময়কার ঘটনা ও সেনাবাহিনীর ভূমিকা

ইকবাল করিম ভূঁইয়া তার পোস্টে ২০০৬-২০০৮ সময়ের ঘটনাগুলোকেও বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

  • বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের চেষ্টাকে আওয়ামী লীগ ‘লগি-বৈঠার আন্দোলন’-এর মাধ্যমে প্রতিহত করেছিল।
  • সেনাবাহিনীর সমর্থনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুই বছর ক্ষমতায় ছিল এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় আসে।
  • তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ২০০৮ সালের নির্বাচনও বিতর্কিত ছিল এবং সেনাসমর্থিত সরকার দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় ছিল।

৪. বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রভাব

  • রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে পারে: বর্তমান সময়ে এই বক্তব্য বিএনপির জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তারা নতুন করে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতারণার অভিযোগ তুলতে পারে।
  • সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা: সাবেক সেনাপ্রধানের এই বক্তব্য সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনী যে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেনি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
  • আওয়ামী লীগের জবাবদিহিতা: আওয়ামী লীগ যদি সত্যিই বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে কোনো সমঝোতা করেও থাকে, তবে কেন তা বাস্তবায়ন হয়নি—সেই প্রশ্ন ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইকবাল করিম ভূঁইয়ার বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ এবং অতীতের নির্বাচন, সেনাবাহিনীর ভূমিকা ও রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়ে নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে। এই বক্তব্যের ফলে বিএনপি ও বিরোধী দলগুলো তাদের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারে, তবে আওয়ামী লীগ এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা হিসেবে দেখাতে পারে। সামনের দিনগুলোতে এই বিতর্ক কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে রাজনীতিবিদদের প্রতিক্রিয়া ও জনমতের ওপর।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ