ঝিকরগাছা উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে চারজন আহত হয়েছেন। এই ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) উপজেলার নির্বাসখোলা ইউনিয়নের শিওরদাহ গ্রামে ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন—শিওরদাহ গ্রামের বিএনপি নেতা আজিজুর রহমান রিপন (৪২), তার ছেলে ইমরান হোসেন (২২), মেছের সরদারের ছেলে মিন্টু মিয়া (২৯) ও উজ্জেত আলীর মেয়ে রেনুকা খাতুন (৩০)। আহতদের মধ্যে রেনুকা যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, বাকিরা ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন।
ঘটনার পর বিএনপি নেতা আজিজুর রহমান রিপন প্রতিপক্ষের চারজনের বিরুদ্ধে ঝিকরগাছা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন—মনিরুজ্জামান, ইজ্জত আলী, গোলাম হোসেন ও নুর আলম।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ইজ্জত আলীর সঙ্গে প্রবাসী ইসমাইল হোসেন, রহিমা খাতুন, ওলিয়ার রহমান ও আব্দুল আলিমের জমি সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। বিরোধের সমাধান করতে বৃহস্পতিবার দুপুরে শিওরদাহ স্কুলের সামনে সালিশ বসে। এ সময় মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে একদল লোক সালিশে উপস্থিত ব্যক্তিদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিপন ও তার লোকদের ওপর হামলা চালায়।
প্রবাসী ইসমাইল হোসেনের ভাগ্নে সুমন হোসেন জানান, তার মামা ১২৫ নম্বর শিওরদাহ মৌজার ৪৪৯ নম্বর খতিয়ানের ১৯৯ দাগের ৭৭ শতক জমির মধ্যে ৬৪ শতক জমি ক্রয় করেন। কিন্তু দুই বছর আগে স্থানীয় আওয়ামী লীগ প্রভাব খাটিয়ে ২ শতক জমি দখল করে নেয়। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ হলেও কোনো সমাধান হয়নি। বৃহস্পতিবার জমি মাপার দিন ছিল, কিন্তু প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে তা বাধাগ্রস্ত করে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইজ্জত আলী বলেন, “জমির বৈধ দলিল দেখাতে না পারায় জমি মাপতে দেওয়া হয়নি।” হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার মেয়ের জামাইরা বাঁশ কাটতে গিয়েছিল, তখন এই ঘটনা ঘটে। তাদের হাতে থাকা কুড়াল ও দা ছিল, তবে হামলার উদ্দেশ্যে নয়।”
পুলিশ জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

