যশোরের সাত বিশিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে মনগড়া ও কাল্পনিক অভিযোগ আনার অভিযোগে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপঙ্কর দাস রতন ও সাধারণ সম্পাদক তপন কুমারের বিরুদ্ধে এক কোটি টাকার মানহানির মামলা করা হয়েছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) যশোর জেলা কমিটির সহ-সভাপতি ও পরিবেশ আন্দোলন যশোরের যুগ্ম আহ্বায়ক, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক গোপীকান্ত সরকার এ মামলাটি দায়ের করেছেন। ৯ মার্চ যশোর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোতোয়ালি আমলী আদালতে এই মামলা করা হয়।
অভিযোগের বিবরণ
মামলায় বলা হয়েছে, দীপঙ্কর দাস রতন ও তপন ঘোষ জেলা প্রশাসকের কাছে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করে যশোরের সাতজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে শারদীয় দুর্গোৎসবে সম্ভাব্য বিঘ্ন সৃষ্টিকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সেই অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
অভিযোগপত্রে উল্লেখিত বিশিষ্টজনদের দুর্বৃত্ত, সমাজনিন্দিত এবং দুর্গাপূজায় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন বলে উল্লেখ করা হয়। মামলায় দাবি করা হয়েছে, অভিযোগপত্রটি সম্পূর্ণ অসৎ উদ্দেশ্যে, ভিত্তিহীনভাবে ও প্রমাণ ছাড়াই তাদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য দেওয়া হয়েছে।
অধ্যাপক গোপীকান্ত সরকার ছাড়াও মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলেন—
- অখিল কুমার চক্রবর্তী – ঝিনাইদহ সরকারি মাহতাব উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও যশোরের শ্রীশ্রী জোড়া শিব মন্দিরের সেবায়েত
- মৃণাল দে – বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার ও হরিসভা মন্দিরের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক
- বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক – বিশিষ্ট মানবাধিকার সংগঠক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি, রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক
- দীপক রায় – যশোর সদর উপজেলার অবসরপ্রাপ্ত উপজেলা সমবায় অফিসার
- সনৎ সাহা – সাহা ব্রিক্সের সত্ত্বাধিকারী ও নীলগঞ্জ মহাশ্মশানের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক
- অসীম কুন্ডু – যশোর বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ যশোর জেলা শাখার প্রাক্তন সভাপতি
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবদানের স্বীকৃতি
মামলায় বলা হয়েছে, অভিযুক্ত দীপঙ্কর দাস রতন ও তপন ঘোষের দৃষ্টিতে তারা “নাশকতাকারী” হলেও বাস্তবে তারা যশোরের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের পৃষ্ঠপোষক এবং সনাতন ধর্মীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
দীপঙ্কর দাস রতন ও তপন ঘোষের দেওয়া অভিযোগপত্রের ফলে অধ্যাপক গোপীকান্ত সরকারসহ সাত বিশিষ্টজনের দীর্ঘদিনের অর্জিত সম্মান নষ্ট হয়েছে। এতে তাদের খ্যাতি ও সামাজিক অবস্থান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা এক কোটি টাকার সমপরিমাণ ক্ষতির শামিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, পূজা পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পূর্বপরিকল্পিতভাবে যোগসাজশের মাধ্যমে এই মিথ্যা অভিযোগ করেছেন, যা তাদের সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।

