বাঘারপাড়ার জহুরপুর ইউনিয়নে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ৩

আরো পড়ুন

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার জহুরপুর ইউনিয়নে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন, যার মধ্যে তিনজনকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বেতালপাড়া বাজারে এই সংঘর্ষ হয়। আহতরা হলেন—বেতালপাড়া গ্রামের মৃত শামছুদ্দিন মণ্ডলের ছেলে ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাবুল মণ্ডল (৫৫), জামায়াত কর্মী মৃত লাল চাঁদ বিশ্বাসের ছেলে ছুরমান বিশ্বাস (৫৭) ও তার ছেলে মোমিন হোসেন (২৫)।

সংঘর্ষের কারণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি নেতা বাবুল মণ্ডলের ছেলে মানসিকভাবে অসুস্থ এবং বৃহস্পতিবার সকালে চাল সংগ্রহ করতে নরসিংহপুর গ্রামে যান। এ সময় স্থানীয়রা তাকে সন্দেহ করে মারধর করেন এবং একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। জামায়াত কর্মী মোমিন ভিডিওতে মন্তব্য করলে সন্ধ্যায় বেতালপাড়া বাজারে বাবুল ও মোমিনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়, যা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বিএনপি নেতা বাবুল, জামায়াত কর্মী ছুরমান ও তার ছেলে মোমিনসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

অভিযুক্তদের আটকের দাবি ও পাল্টা অবস্থান কর্মসূচি
ঘটনার পর অভিযুক্তদের আটকের দাবিতে বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তালেবের নেতৃত্বে রাত ৯টায় অর্ধশতাধিক কর্মী খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পে অবস্থান নেয়। আবু তালেব অভিযোগ করেন, বাবুলের লোকজন মোমিন ও তার বাবা ছুরমানকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিলেও পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়।

এর প্রতিবাদে শুক্রবার বেলা ১১টায় জামায়াত নেতাকর্মীরা খাজুরা বাজার টিপিএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাল্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মঞ্জুর কাদের জানান, বিএনপির নেতারা পুলিশের কাছে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন এবং জামায়াত আহতদের হাসপাতালে পাঠাতে সহযোগিতা করেছে।

পুলিশের বক্তব্য
খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রাজ্জাক জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। পুলিশ তদন্ত করছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাঘারপাড়া থানার ওসি ফকির তাইজুর রহমান। সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ