যশোর পৌরবাসীকে বছরের পর বছর বোকা বানিয়ে আসছিলেন আওয়ামী আমলের জনপ্রতিনিধিরা। সামান্য কাদামাটি তুলে লোক দেখানো ড্রেন পরিষ্কারের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন তারা। বর্তমানে পৌরকর্তৃপক্ষ ড্রেন পরিষ্কারের কাজে নেমে বিশাল পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা তুলছে, যা দেখে স্পষ্ট—বিগত সময়ে এসব কাজের নামে দুর্নীতি হয়েছে।
পূর্বের দুর্নীতির চিত্র
পৌরসভার একটি সূত্র জানায়, বিগত দিনে ড্রেন পরিষ্কারের জন্য প্রতিমাসে প্রতিজন কাউন্সিলরের জন্য ৬০ জন শ্রমিক বরাদ্দ থাকত। তাদের দৈনিক মজুরি ছিল ৪০০ টাকা, ফলে প্রতিমাসে একেকজন কাউন্সিলর ২৪ হাজার টাকা উত্তোলন করতেন। ১২ জন কাউন্সিলর মিলিয়ে বছরে ৩ কোটি ৪ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বরাদ্দ পেতেন। তবে সেই টাকার কোনো হিসাব নেই, কাজও হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী বিএম কামাল আহমেদ বলেন, “ড্রেন পরিষ্কারের সময় যে পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা উঠছে, তা দেখে মনে হচ্ছে, বিগত সময়ে জনপ্রতিনিধিরা কাজ না করেই টাকা আত্মসাৎ করেছেন।”
বর্তমান উদ্যোগ ও অগ্রগতি
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়। পরে পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, জেলা ও উপজেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। যশোর পৌর প্রশাসক নিয়োগের পর পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এ কাজে বরাদ্দ ধরা হয়েছে প্রায় এক কোটি টাকা।
ইতোমধ্যে শহরের ভোলা ট্যাংক রোড, মুজিব সড়ক, রেল রোডসহ বিভিন্ন এলাকার ড্রেন পরিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল (সোমবার) আইনজীবী ভবন ও প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে গিয়ে দেখা যায়, ড্রেন পরিষ্কারের পর ময়লার স্তূপ রাখা হয়েছে। পথচারী নাসির উদ্দিন বলেন, “এভাবে ড্রেন পরিষ্কার হচ্ছে, যা আগে কখনো দেখিনি। পৌরবাসী শুধু কর দিয়ে গেছে, জনপ্রতিনিধিরা সেই করের টাকা পকেটস্থ করেছেন।”
ভোলা ট্যাংক রোডের বাসিন্দা ফরিদা আক্তার বলেন, “এতদিন কোনো ড্রেন পরিষ্কার হতে দেখিনি। এবার প্রথমবারের মতো ড্রেনের স্ল্যাব থেকে একেবারে নিচ পর্যন্ত পরিষ্কার করা হচ্ছে। আশা করছি, এবার জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবো।”
কাজের বর্তমান অবস্থা
পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা উত্তম কুমার কুন্ডু জানান, সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে কাজ শুরু হয়েছে, যা এখন ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিদিন ৯টি ওয়ার্ডে ৬০ থেকে ৭০ জন শ্রমিক কাজ করছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন ইন্সপেক্টর কাজের তদারকি করছেন। এপ্রিল মাসের মধ্যে পুরো কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ উদ্যোগে পৌরবাসী সন্তোষ প্রকাশ করলেও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—আগের জনপ্রতিনিধিরা তাহলে কাজ না করেই কোটি কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন? এ নিয়ে তদন্ত ও জবাবদিহিতার দাবি উঠেছে।
জাগো/মেহেদী

