কুড়িগ্রামে ‘মার্চ ফর ফেলানী’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, “যদি সীমান্তে আর কোনো ভাই বা বোনের লাশ ঝুলে থাকে, তাহলে তারকাঁটার লক্ষ্য করে লংমার্চ হবে। প্রয়োজন হলে সেই কাঁটাতার ভেঙে ফেলা হবে। সীমান্তে লাশ দেখলে আমরা আর চুপ করে থাকব না।”
সকাল ১১টায় কুড়িগ্রাম জেলা শহরের কলেজ মোড় থেকে লংমার্চ শুরু হয়, যা শেষ হবে নাগেশ্বরী উপজেলার নাখারগঞ্জ গ্রামে ফেলানীর বাড়িতে। সারজিস আলম আরও বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে বিশ্বের প্রতিটি দেশকে জানাতে চাই, সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে হবে। সীমান্তে যে হত্যাকাণ্ড ঘটছে, তার বিচার আন্তর্জাতিক আদালতে করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ছাত্র-জনতার আন্দোলন নতজানু পররাষ্ট্রনীতি মেনে নেবে না। ভবিষ্যতে যারা ক্ষমতায় আসবে, তারা যদি কোনো দেশের দালালি করে, তাদের পরিণতি শেখ হাসিনার মতো হবে।”
লংমার্চের শুরুতে সারজিস আলম সীমান্তে নাগরিক হত্যার বিচার, সীমান্তে মরণঘাতী অস্ত্র বন্ধ, শহীদ ফেলানীর নামে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ভবনের নামকরণ, নতজানু পররাষ্ট্রনীতি বাতিল করে সাম্যের ভিত্তিতে পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ এবং কুড়িগ্রামের চরের জীবন-জীবিকা উন্নয়নে নদী সংস্কারের ৫ দফা দাবি জানান।
লংমার্চে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ, সদস্যসচিব আরিফ সোহেল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দপ্তর সম্পাদক জাহিদ আহসান, সমন্বয়ক রকিব মাসুদসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা। লংমার্চে ফেলানীর বাবা নুর ইসলামও অংশ নেন। লংমার্চ শেষে নাখারগঞ্জ বাজারে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

