চৌগাছার ফতেপুর গ্রামের গাছি নজরুল ইসলাম জানান, তিনি প্রায় বিশ বছর ধরে গাছ কাটছেন। এ বছর তিনি ৫২টি গাছ কেটেছেন রস সংগ্রহের জন্য। তবে, তিনি খুব বেশি গুড় তৈরি করতে পারেননি। তিনি বলেন, “গুড় বেশি হবে ফাল্গুন মাসে। এখন শীতের কারণে জিরেন (স্বচ্ছ) রস সব বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। এক ভাড় রস ২৫০ টাকায় বিক্রি করছি। গুড়ের চেয়ে রস বিক্রিতে বেশি লাভ হচ্ছে।”
পাশাপোল গ্রামের গাছি আলম গাজি জানান, তিনি ত্রিশ বছর ধরে গাছ কাটছেন। এ বছর তিনি ২৫টি গাছ কেটেছেন। তবে, গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বেশি গুড় তৈরি করতে পারছেন না। মেলায় তিনি গুড়-পাটালি এনেছেন এবং ভালো দাম পাচ্ছেন।
সিংহঝুলি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হামিদ মল্লিক জানান, ২০২২ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরুফা সুলতানার উদ্যোগে প্রথমবারের মতো চৌগাছায় খেজুর গুড়ের মেলা চালু হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও মেলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে খেজুর গুড় যশোরের জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তিনি বলেন, “খেজুর গুড়ের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও শিল্পের বিকাশে এই মেলা অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।”
উপজেলা সমবায় অফিসার অহিদুর রহমান জানান, আগে গাছিরা সংগঠিত ছিল না। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১১টি ইউনিয়নে একটি করে গাছি সমবায় সমিতি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “গাছিরা এখন সংগঠিত। তাদেরকে সরকারিভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে।”
মেলার আয়োজক চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুস্মিতা সাহা বলেন, “খেজুর গুড় যশোরের জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। খেজুর গুড়ের অর্থনীতি সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় ব্যাপক সাড়া পড়েছে।”
জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম জানান, খেজুর গুড়ের ঐতিহ্যকে সারাবিশ্বের সামনে তুলে ধরার লক্ষ্যে মেলার আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “খেজুর গুড় উৎপাদনের মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরি ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চাই।”
উপজেলা চত্বরে মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুস্মিতা সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসমিন জাহান, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুস সালাম প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসাব্বির হোসাইন। মেলার সমাপনী অনুষ্ঠান হবে আগামী ১৭ জানুয়ারি।
জাগো/মেহেদী

