এক বছর আগে অপহরণ এবং ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে যশোর উপশহর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এহসানুর রহমান লিটুসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী মুজিবার রহমান। গত রোববার (১৫ ডিসেম্বর) সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম কিবরিয়া অভিযোগের তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন সিআইডি যশোর জোনের বিশেষ পুলিশ সুপারকে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী মুজিবার রহমান বাগেরহাট সদর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের মৃত মহর আলী শেখের ছেলে। বর্তমানে তিনি যশোর উপশহরের বাসিন্দা। মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন – সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এহসানুর রহমান লিটু, উপশহর এ-ব্লকের মৃত এতিম উন হকের ছেলে ইউপি মেম্বার জসিম উদ্দিন, সি-ব্লকের মোহাম্মদ খলিল ও তার স্ত্রী রাবেয়া খাতুন মিনু, মৃত মঞ্জুরুলের ছেলে সৈয়দ মুনসুর আলম, ১ নম্বর সেক্টরের মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে শাহিন, মৃত মশিয়ার ড্রাইভারের ছেলে সজল এবং একই এলাকার অনিক।
মুজিবার রহমান অভিযোগে উল্লেখ করেন, রাবেয়া খাতুন মিনুর সঙ্গে তার পূর্ব পরিচয় ছিল এবং উভয়ের বাড়িতে যাতায়াতও ছিল। তবে, কোনো একসময় তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এরপর রাবেয়া খাতুন তাকে ক্ষতি করার পরিকল্পনা করেন। ২০২৩ সালের ১০ ডিসেম্বর সকাল ৯টার দিকে মুজিবার রহমান নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে রাবেয়া খাতুন মিনুর বাড়ির সামনে গেলে, তার ইন্ধনে আসামিরা তাকে অপহরণ করেন।
মুজিবারকে রাবেয়া খাতুন ও খলিলের বাসায় আটকে রাখা হয়। সেখানে সৈয়দ মুনসুর আলম ও এহসানুর রহমান লিটু তার মুখে অস্ত্র ধরে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। মুক্তিপণ না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। ভয়ে তিনি ৫ লাখ টাকা দিতে সম্মত হন। পরে মুক্তিপণের টাকা আদায় করার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী জানান, আসামিদের হুমকির কারণে তিনি আগে আইনগত পদক্ষেপ নিতে সাহস পাননি। তবে বর্তমান পরিস্থিতি অনুকূল হওয়ায় তিনি আদালতে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
জাগো/মেহেদী

