গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানার ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। একইসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট এবং চৌধুরী জাফরুল্লাহ সরাফাতের ব্যাংক হিসাবের তথ্যও তলব করা হয়েছে। ব্যাংকগুলোকে আগামী ৫ দিনের মধ্যে লেনদেন, হিসাব খোলার ফরম, এবং কেওয়াইসি-সহ সমস্ত তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের ব্যাংক হিসাব থেকে কীভাবে টাকা এসেছে এবং কোথায় খরচ হয়েছে, সে সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্যও চাওয়া হয়েছে। এই ট্রাস্টের চেয়ারম্যান শেখ হাসিনা এবং তাঁর বোন শেখ রেহানা অন্যতম ট্রাস্টি।
গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর প্রায় ৫৫০টি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করেছে বিএফআইইউ। এর মধ্যে ১৪,৫০০ কোটি টাকার হিসাব রয়েছে। শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার ব্যাংক হিসাবের তথ্য প্রথমবারের মতো চাওয়া হলো।
অন্যদিকে, শেখ হাসিনার পরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত চৌধুরী জাফরুল্লাহ সরাফাত এবং তাঁর পরিবারের ব্যাংক হিসাবের তথ্যও চাওয়া হয়েছে। এর আগে তাঁর ভাই চৌধুরী নাফিজ সরাফাতের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়।
এছাড়া, শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, এবং শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববির অ্যাকাউন্টও ফ্রিজ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের গবেষণা সেল সিআরআই এবং এর প্রকল্প ইয়ং বাংলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার এবং রাজস্ব ফাঁকি সংশ্লিষ্ট অভিযোগে ১২টি বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। এসব টিম দেশের প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবার ও ব্যবসায়ী গ্রুপের সম্পদ অনুসন্ধানে কাজ করছে।
এই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো অর্থ পাচারের প্রমাণ পাওয়া গেলে দ্রুত অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া। তালিকাভুক্ত ব্যবসায়ী গ্রুপের মধ্যে এস আলম, বেক্সিমকো, সামিট, বসুন্ধরা এবং আরও কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

