যশোর শহরের বাবুবাজার, ঝালাইপট্টি, এবং মাড়ুয়া মন্দির সংলগ্ন এলাকায় একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। সাবেক ইউপি মেম্বার জাকির হোসেন ও আনারুলের নেতৃত্বে এই চক্রটি প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলেও স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনের কিছু সদস্যের সহযোগিতায় এই চক্রটি নিরাপদে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে।
চক্রের কার্যক্রম:
- মদ বিক্রির কৌশল: চক্রের সদস্যরা ভেজাল মদ, ইয়াবা, এবং গাঁজা বিক্রি করে। তারা মদের বোতলে পানির সাথে স্পিরিট এবং নেশাজাতীয় ট্যাবলেট মিশিয়ে তা সরবরাহ করে।
- স্থানীয় পরিস্থিতি: বাবুবাজার-ঝালাইপট্টি এলাকায় মাদক সেবনের কারণে প্রায়শই গোলযোগ এবং মারামারি হয়। যৌনকর্মীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা সবসময় আতঙ্কে থাকেন।
- মাদক কারবারের কেন্দ্রীভূত স্থান: ঝালাইপট্টির বাবুবাজার ২ নম্বর গলির যৌনকর্মীদের ঘর, তাড়িখানা গলি, এবং স্বপ্নপুরী হোটেলের পেছন থেকে মাদক সরবরাহ করা হয়।
চক্রের প্রধান সদস্য:
- জাকির হোসেন: পতিতালয়ে বিয়ে করে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
- আনারুল: যৌনকর্মীর ঘরকে কেন্দ্র করে ব্যবসা পরিচালনা করেন।
- রাসেল: মোবাইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করে ভ্রাম্যমাণ মাদক সরবরাহ করেন।
- ছোট মহসিন ও টাকুয়া: মাদক বিক্রির পাশাপাশি লোকজনকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলেন।
প্রশাসনের ভূমিকা ও প্রতিশ্রুতি:
- স্থানীয় পুলিশের দাবি, তারা মাদকের কারবার সম্পর্কে জানে না। তবে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
- জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চক্রটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের উদ্বেগ:
এই চক্রের কারণে এলাকার পরিবেশ অস্বাভাবিক হয়ে পড়েছে। মাদকাসক্তদের কারণে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা প্রায়শই ঘটে। অনেকেই মুখ খুলতে ভয় পান, কারণ মাদক কারবারিদের রয়েছে প্রভাবশালী সংযোগ।
এমতাবস্থায়, স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা এবং কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন।

