পাকিস্তানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের আহ্বানে শুরু হওয়া বিক্ষোভে দেশজুড়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিক্ষোভ ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানা যায়, ইমরান খানের মুক্তি এবং সরকারের পদত্যাগের দাবিতে সোমবার ইসলামাবাদের উপকণ্ঠে পিটিআই নেতা-কর্মীদের বিশাল গাড়িবহর পৌঁছায়। সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন ইসলামাবাদের সব প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয় এবং শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে।
সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত একজন পুলিশ সদস্য ও চারজন রেঞ্জার্স সদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন রেঞ্জার্স সদস্য ও দুইজন পুলিশ কর্মকর্তা। এ ঘটনায় পুলিশের ২২টি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রাদেশিক পুলিশ প্রধান উসমান আনোয়ার জানান, সংঘর্ষে ১১৯ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বিক্ষোভকারীদের দাবি ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া:
পিটিআই দাবি করেছে, পুলিশের হামলায় তাদের অনেক কর্মী আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সহিংস কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে পিটিআইয়ের পাঁচজন সংসদ সদস্যসহ প্রায় চার হাজার কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কঠোর পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক নির্দেশনা:
ইসলামাবাদ ও পাঞ্জাব প্রদেশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। ইসলামাবাদের ‘রেড জোন’-এ প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং কোনো ধরনের সরকারি ভবনের ক্ষতি এড়াতে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকবি সতর্ক করে বলেছেন, রেড জোনে প্রবেশের চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ:
বিক্ষোভ দমনের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠেছে।
পাকিস্তানের এই সংকটময় পরিস্থিতি রাজনৈতিক অস্থিরতার আরও গভীরতর রূপ নিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

