পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে যশোরকে রাখা নিয়ে সংশয়

আরো পড়ুন

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের অধীনে যশোর-ঢাকা রুটে রেল চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। যশোরবাসীর দাবি অনুযায়ী ট্রেন চালু না হলে, সারাদেশের সঙ্গে যশোর-খুলনার রেল যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে “বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি”।

এ প্রকল্পের অধীনে ঢাকা থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা হয়ে যশোর পর্যন্ত রেল চালু করার কথা থাকলেও, ভাঙ্গা জংশনের সিগন্যালিং কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় ১৫ নভেম্বর নির্ধারিত সময়সীমায় এটি সম্ভব হয়নি। প্রকল্প পরিচালকের (পিডি) তথ্য অনুযায়ী, আগামী মাসের শুরুতে ট্রেন চালু হতে পারে।

নতুন রেলপথ চালু হলে, যশোর থেকে ঢাকার যাতায়াত সময় তিন ঘণ্টায় নেমে আসবে। তবে, যশোর শহর থেকে ১৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পদ্মবিলা জংশন ব্যবহার করতে হবে, যা যাত্রীদের জন্য সমস্যার কারণ হতে পারে।

যশোরবাসীর দাবি ও আন্দোলনের প্রেক্ষাপট:
যশোরের জনগণ তাদের দাবি উপেক্ষিত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তারা ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে:

1. বেনাপোল-যশোর-ঢাকা ও দর্শনা-যশোর-ঢাকা রুটে দুটি করে ট্রেন চালু।

2. আন্তঃনগর ট্রেনের সময়সূচি ঢাকায় কর্মজীবীদের সুবিধামতো নির্ধারণ।

3. যাত্রী ও কৃষিপণ্যের জন্য সুলভ বগি ও মালবাহী বগি সংযুক্তি।

4. বাস ভাড়ার তুলনায় রেল ভাড়া সাশ্রয়ী করা।

5. টিকিট পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ এবং সিনিয়র সিটিজেনদের অগ্রাধিকার।

6. দর্শনা থেকে খুলনা ডবল রেলপথ দ্রুত বাস্তবায়ন।

 

আন্দোলনের আল্টিমেটাম:
আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তাদের দাবিগুলো পূরণ না হলে ট্রেন উদ্বোধনের দিন যশোর জংশন অবরোধ করে সারা দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করবে।

রেল কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া:
রেলওয়ের মহাপরিচালক জানিয়েছেন, প্রকল্পের কাজ চলমান এবং পরিকল্পিতভাবে ট্রেন চালুর চেষ্টা চলছে। তবে, আন্দোলনকারীদের দাবির বিষয়ে বিস্তারিত জানা নেই।

যশোরবাসীর সঙ্গে সরকারের সমঝোতা না হলে, রেল যোগাযোগের উন্নয়ন প্রকল্পটি স্থানীয় মানুষের জন্য প্রত্যাশিত সুবিধা দিতে ব্যর্থ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ