বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম বলেছেন, “ফ্যাসিবাদী শক্তি ও ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা তাদের শাসনামলে ইসলামি আন্দোলনের কর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে। পড়ার টেবিলের কোরআন-হাদিস ও ইসলামি সাহিত্যকে ‘জঙ্গি বই’ আখ্যা দিয়ে অসংখ্য নাটক মঞ্চস্থ করেছে। কিন্তু সেই অধ্যায় এখন শেষ হয়েছে। দেশে নতুন যুগের সূচনা হয়েছে।”
শনিবার (১৬ নভেম্বর) বাগেরহাট শহরের স্বাধীনতা উদ্যানে শিবিরের কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকার সম্পর্কে মন্তব্য করে মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, “গত ৫ আগস্ট তাদের পতন ঘটেছে। জামায়াত ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের ফাঁসি এবং কারাগারে হত্যার মধ্য দিয়ে বিগত সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। তবুও ছাত্রশিবিরের কোনো নেতা-কর্মী দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়নি। যারা নিজ দলের কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে দেশত্যাগ করে, তারা আর জনগণের সমর্থন পাবে না।”
তিনি বলেন, “বিগত সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ছিল না। ছাত্রলীগ ও তাদের সহযোগীদের সন্ত্রাস ও মাদকের দৌরাত্ম্যে ক্যাম্পাসগুলো অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছিল। আমরা চাই, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সব রাজনৈতিক ও ইসলামি ছাত্রসংগঠনের উপস্থিতি নিশ্চিত করে সুন্দর একটি পরিবেশ তৈরি করা হোক।”
ছাত্রশিবিরকে দেশের সবচেয়ে নিপীড়িত ছাত্রসংগঠন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের সংগঠন অতীতেও কঠিন পরীক্ষা দিয়ে স্বৈরাচারী শাসকদের ক্ষমতা থেকে সরিয়েছে। ভবিষ্যতেও আমরা এই সংগ্রাম অব্যাহত রাখব।”
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি নাজমুল হাসান সাইফ। আরও বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রেজাউল করিম, নায়েব আমির অ্যাডভোকেট আব্দুল ওয়াদুদ, সেক্রেটারি শেখ ইউনুস আলী, শিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক সফি উল্লাহ, ঢাকাস্থ বাগেরহাট ফোরামের সভাপতি ডা. আতিয়ার রহমান প্রমুখ।

