যশোরের মণিরামপুরে যৌতুক না পেয়ে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে তালাক দেওয়ার অভিযোগে এক স্বাস্থ্যকর্মীকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় স্ত্রী শান্তা খাতুন তার স্বামী ইকরামুল কবির জনির বিরুদ্ধে মামলা করলে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠান। শান্তা তার স্বামীর চাকরি থেকে বরখাস্তসহ বিভাগীয় ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে বৃহস্পতিবার মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যরা জানান, কেশবপুর উপজেলার কমলাপুর গ্রামের কৃষক হাফিজুর মোড়লের মেয়ে শান্তা খাতুনের সঙ্গে ২০২৩ সালের ২৫ জুন জনির বিয়ে হয়। বিয়ের পর জনি শান্তার কাছে মোটরসাইকেল ও পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। শান্তার বাবা ধার দেনা করে মোটরসাইকেল ও স্বর্ণের আংটিসহ পাঁচ লাখ টাকার আসবাবপত্র দেন। এরই মধ্যে শান্তা অন্তঃসত্ত্বা হন।
কিন্তু জনি আবারও পাঁচ লাখ টাকা নগদ দাবি করেন। এ নিয়ে ৫ এপ্রিল স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় এবং এক পর্যায়ে জনি শান্তাকে মারধর করেন। ১৫ এপ্রিল জনি তাকে তালাক দেন। এরপর শান্তা আদালতে মামলা করেন, যার শুনানি শেষে ২৮ অক্টোবর জনিকে জেল হাজতে পাঠানো হয়।
এলাকাবাসী জানান, জনি পরকীয়ায় জড়িত থেকে এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছেন এবং শান্তাকে তালাক দিয়ে সেই নারীকে বিয়ে করেছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তন্ময় বিশ্বাস জানান, ইকরামুল কবির জনির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
জাগো/মেহেদী

