মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাক্কালে বিশ্ববাসীর নজর বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি। ট্রাম্প যদি পুনরায় নির্বাচিত হন, তবে তার প্রভাব দেশ এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক হতে পারে। তবে, যদি তিনি হেরে যান, সেক্ষেত্রেও পরিস্থিতি অশান্ত হতে পারে, এবং বিশেষ করে অনেক মার্কিন নাগরিকের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
ইউগভের একটি জরিপে দেখা গেছে, এক-চতুর্থাংশের বেশি অংশগ্রহণকারী মনে করছেন, নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে গৃহযুদ্ধ শুরু হতে পারে। ১২ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন, তারা এমন ব্যক্তিদের চেনেন যারা ট্রাম্পের প্রতি প্রতারিত মনে করলে হাতে অস্ত্র তুলে নিতে পারেন। আগামী ৫ নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে ট্রাম্প এবং ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস রয়েছে।
২০১৬ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের জয় এবং ২০২০ সালে জো বাইডেনের কাছে পরাজয়ের পর থেকে ট্রাম্পের অস্বীকৃতি মার্কিন জনগণের মধ্যে বিভক্তি তৈরি করেছে। ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি, ট্রাম্পের উগ্র সমর্থকদের ক্যাপিটল হিলে হামলা, যে হামলার উদ্দেশ্য ছিল বাইডেনের জয়কে ঠেকানো, তা এখনও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
এখন, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন যে ট্রাম্প যদি এই নির্বাচনে পরাজিত হন, তবে তিনি আবারও ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলতে পারেন, যা দেশটিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। মিশিগানে নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি যদি হেরে যান তবে সেটি ডেমোক্র্যাটদের প্রতারণার কারণে হবে।
আসন্ন নির্বাচনে সম্ভাব্য সহিংসতার আশঙ্কা বেড়ে গেছে। সন্ত্রাসবাদী হামলা এবং সহিংসতার হুমকি সম্পর্কিত রিপোর্টে জানানো হয়েছে যে, বিদেশি ক্রীড়নকের মাধ্যমে সহিংসতার ঘটনা ঘটতে পারে। অনেক বিশেষজ্ঞ আশঙ্কা করছেন, নির্বাচনের পরের দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ এবং সহিংসতা ঘটতে পারে।
এরই মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে নির্বাচনের সময় এবং তার পরেও কিছু অঙ্গরাজ্যে সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে।
জগো/মেহেদী

