দুর্নীতিবাজদের ভারতে পালানোর নিরাপদ রুট মহেশপুর সীমান্ত

আরো পড়ুন

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তকে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, এবং মানব পাচারকারীদের জন্য একটি নিরাপদ পালানোর রুট হিসেবে ব্যবহৃত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর, এই সীমান্ত দিয়ে পালানোর ঘটনা বেড়েছে। মহেশপুর সীমান্তের অরক্ষিত অংশগুলিকে ব্যবহার করে মানব পাচারের সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যেখানে প্রায় ২০০ জন সদস্য সক্রিয় রয়েছে। এরা লাখ লাখ টাকা নিয়ে পাচারের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে।

বিজিবি’র (বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড) অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও কর্মকর্তাকে আটক করেছে, যেমন হাসিনা সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এবং কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা। তবে গ্রামবাসীদের মতে, আটক হওয়া ব্যক্তিদের চেয়েও অনেক বেশি লোক অবৈধভাবে সীমান্ত পার হয়ে যাচ্ছে।

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তটি ৭৮ কিলোমিটার দীর্ঘ, যার মধ্যে ৬৮ কিলোমিটার তারকাটার বেড়া দিয়ে সুরক্ষিত, কিন্তু বাকি ১০ কিলোমিটার অরক্ষিত। পাচারকারীরা এই অরক্ষিত অংশটিকে পাচারের জন্য ব্যবহার করছে। স্থানীয় দালালরা নতুন নতুন কৌশল আবিষ্কার করে পাচারকার্য চালিয়ে যাচ্ছে, যা বিজিবির টহল সত্ত্বেও থামানো যাচ্ছে না।

বিজিবির মহেশপুর খালিশপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল শাহ মো. আজিজুস শহীদ জানিয়েছেন, বিজিবি সীমান্তে কড়া নজরদারি করছে এবং পাচার বন্ধে নতুন পদ্ধতি প্রয়োগ করা হচ্ছে। তবে সীমান্তের কিছু অংশে ভারতের অভ্যন্তরে কাঁটাতার না থাকায়, পাচারকারীরা সেসব এলাকা ব্যবহার করতে পারছে। পাচার রোধে বিএসএফের সঙ্গে কাঁটাতার নির্মাণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, পাসপোর্টবিহীন সীমান্ত পারাপারে শাস্তি ও জরিমানা কম হওয়ায় অপরাধীরা সহজেই জামিন পেয়ে যায়, যা পাচার বৃদ্ধির কারণ হিসেবে কাজ করছে। আইন পরিবর্তন করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা জরুরি বলে মত দিয়েছেন তারা।

Jaago ;Rownak Hasan Mumit

আরো পড়ুন

সর্বশেষ