খাগড়াছড়িতে ভয়াবহ সহিংসতা: ১০৫টি দোকান পুড়ে ছাই, নিহত ৩

আরো পড়ুন

খাগড়াছড়ির দিঘীনালায় শুরু হওয়া সহিংসতা রাতভর জেলা সদরে ছড়িয়ে পড়েছে। পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষে ১০৫টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং তিনজন নিহত হয়েছেন।

গত বুধবার সদরের নোয়াপাড়ায় এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দিঘীনালায় শুরু হওয়া বিক্ষোভ শুক্রবার দুপুরে ভয়াবহ আকার ধারণ করে। লারমা স্কয়ার বাজারে পাহাড়ি ও বাঙালি ব্যবসায়ীদের দোকানে আগুন দেওয়া হয়। ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নিউটন চাকমার মতে, মোট ১০৫টি দোকান, ব্যাটারিচালিত গাড়ি ও বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল পুড়ে গেছে

এই সংঘর্ষে জুনান চাকমা, ধনাঞ্জয় চাকমা ও রুবেল চাকমা নামে তিনজন নিহত হয়েছেন। খাগড়াছড়ি জেলার পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল জানিয়েছেন, লাশগুলো তাদের আত্মীয়-স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পাহাড়ি-বাঙালিদের মধ্যে সংঘাতকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে। দিঘীনালা সেনা জোন কমান্ডার ওমর কায়সার জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক এবং সেনাবাহিনী ও বিজিবি সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. শহীদুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানিয়েছেন, এই ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দুঃখজনক। ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বোচ্চ পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হবে। প্রয়োজনে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

এই সহিংসতার মূল কারণ হিসেবে গত বুধবার সদরের নোয়াপাড়ায় এক বাঙালি যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাকে দায়ী করা হচ্ছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ধীরে ধীরে সহিংসতায় রূপ নিয়েছে।

খাগড়াছড়িতে ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ সহিংসতা দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের অশান্তিরই প্রতিফলন। এই ঘটনা স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ