যশোরের ৯৩টি ইউনিয়নে সরকারের গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি-৩ (আরইআরএমপি-৩) প্রকল্পের আওতায় রাস্তায় মাটি কাটার কাজে নারী শ্রমিক নিয়োগে ইউপি চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। জেলায় ৯৩০ জন নারী শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে তাদের কাছ থেকে অন্তত দুই কোটি ৭৯ লাখ টাকা এভাবে হাতিয়ে নিয়েছেন তারা।
অভিযোগে বলা হয়, প্রকল্পে নারীকর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা এবং নারীপ্রধান পরিবারের নারী শ্রমিক, ভূমিহীন নারীদের অগ্রাধিকার দেয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু যশোরের অধিকাংশ ইউনিয়নে নারী শ্রমিক নিয়োগে এসব নির্দেশনা মানা হয়নি। বরং ইউনিয়নের দরিদ্র নারী শ্রমিকদের এ কাজে নিয়োগ দিতে তাদের কাছ থেকে মাথাপিছু ৩০ হাজার টাকা করে ঘুষ নেয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা এলজিইডির অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এ কাজ করেছেন।
মণিরামপুর উপজেলার ঝাঁপা ইউনিয়নের তিন জন নারী শ্রমিক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, ‘রাস্তার কাজ পাওয়ার জন্য সরকারের যে-সব নিয়ম ছিল; সেই নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগ দেয়া হয়নি। কাজ পাওয়ার জন্য যে বেশি টাকা দিয়েছে তাকেই কাজে নিয়েছেন চেয়ারম্যান। সর্বনি¤œ ৩০ হাজার থেকে শুরু করে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়েছে চেয়ারম্যানদের।’
চৌগাছা উপজেলার চৌগাছা ইউনিয়নের দুইজন নারী শ্রমিক অভিযোগ করে বলেন, ‘চেয়ারম্যান তো না যেন ডাকাত। টাকা ছাড়া কাজই করেন না। অসুস্থতার জন্য একদিন কাজে না আসলে হাজিরা কেটে নেয় তারা।’
গ্রামের কর্মসংস্থান ও সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি-৩ (আরইআরএমপি-৩) শীর্ষক প্রকল্পের ট্রেনিং অফিসার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জেলার ৯৩টি ইউনিয়নে ৯৩০ জন নারী শ্রমিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে চেয়ারম্যানদের সুপারিশের মাধ্যমে। তাদের দৈনিক হাজিরা ২৫০ টাকা করে। মাসে ৩০ দিন কাজ হয় তাদের।’
অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এসবে জড়িত না। চেয়ারম্যান যাদের সুপারিশ করে পাঠিয়েছে তাদের নাম ঢাকাতে পাঠানো হয়েছে। লেনদেনের ব্যাপারে চেয়ারম্যানরা ভালো বলতে পারবে।’
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘নারী শ্রমিক নিয়োগে টাকা লেনদেন হয়নি। যদি এমন কোন ঘটনা ঘটে থাকে; তাহলে সেই ভুক্তভোগীকে স্ব-শরীরে এসে আমার সাথে যোগাযোগের অনুরোধ করছি। অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’
এই অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

