মসজিদের কাঁঠাল কাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী পালানোর সময় বেনাপোলে ধরা

আরো পড়ুন

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় মসজিদের কাঁঠাল নিলাম নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে বাবুল মিয়া হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী মইনুল হক ভারত হয়ে ফ্রান্সে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) বেনাপোল পোর্ট থানার ডিউটি অফিসার উপপুলিশ পরিদর্শক (এসআই) কাজী জাহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সোমবার (১৭ জুলাই) দুপুরে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। রবিবার (১৬ জুলাই) রাতে এ ঘটনায় দ্বীন ইসলাম গ্রুপের নিহত নুরুল হকের ভাই তফজ্জুল হক ও বাবুল মিয়ার ভাই ফারুক আহমদ বাদী হয়ে মালদার মিয়ার পক্ষের ১৬৩ জনকে আসামি করে পৃথক দুটি মামলা করেন।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি দ্বীন ইসলাম গোষ্ঠীর মৃত আসক আলীর ছেলে মইনুল হক (৩৭)।

বেনাপোল পোর্ট থানা সূত্রে জানা যায়, ভারতে পালিয়ে যাওয়ার জন্য ফ্রান্স প্রবাসী মইনুল হক বেনাপোল ইমিগ্রেশনে পাসপোর্ট জমা দেয়। এ সময় তথ্য যাচাই করে দেখা যায়, তিনি হত্যা মামলার তালিকাভুক্ত আসামি। পরে তাকে গ্রেফতার করে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ পোর্ট থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

জানা গেছে, রবিবার (৯ জুলাই) বিকেলে হাসনাবাদ গ্রামের মসজিদের কাঁঠাল নিলাম নিয়ে সরাইমরল ও মালদার এই দুই পক্ষের লোকদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে সোমবার সকালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় দুই পক্ষের লোকেরা দেশীয় ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই সরাইমরল পক্ষের নুরুল হক ও বাবুল মিয়া নিহত এবং প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে মালাদার পক্ষের শাহজাহান মিয়া নামে আরেকজন ছাতক কৈতক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

এদিকে ওই ঘটনার পর স্থানীয় বাজারে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে পুলিশের ভয়ে আত্মগোপন ছিলেন আহত বৃদ্ধা মুখলেছুর। পরে সোমবার রাতে আত্মীয়ের বাড়িতে মৃত্যু হয় তার। নিহত বৃদ্ধা গ্রামের মালদার পক্ষের লোক। তবে ওই ঘটনার বেশ কিছুদিন পর দ্বীন ইসলাম গোষ্ঠীর নিহত নুরুল হকের ভাই তফজ্জুল হক বাদী হয়ে মালদার মিয়ার গোষ্ঠির ৬৯ জন ও নিহত বাবুল মিয়ার ভাই ফারুক আহমদ বাদী হয়ে ৯৪ জনকে আসামি করে পৃথক দুটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

বেনাপোল পোর্ট থানার ডিউটি অফিসার উপপুলিশ পরিদর্শক (এসআই) কাজী জাহিদুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃত আসামি বেনাপোল পোর্ট থানা হেফাজতে আছে। সংশ্লিষ্ট থানায় তাকে পাঠানো হবে। তার নামে সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা রয়েছে।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ