খুলনায় ডেঙ্গুজ্বরে ৬০ বছর বয়সী সবরুন্নেছা বেগম নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) ভোরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ নিয়ে চলতি বছরে খুলনায় প্রথম কোনো ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হলো।
মারা যাওয়া সবরুন্নেসা বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার নূর মোহাম্মদের স্ত্রী। সকালে তার মরদেহ মোংলায় নিয়ে যান স্বজনরা।
এদিকে সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮ পর্যন্ত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৮ জন এবং দিঘলিয়া উপজেলা হাসপাতালে পাঁচ জন ও সদরের জেনারেল হাসপাতালে তিন জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে খুলনার বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১৭৭ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
খুলনা মেডিকেল কলেজের উপপরিচালক ও ডেঙ্গু ওয়ার্ডের ফোকাল পার্সন ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোংলা উপজেলার সবরুন্নেছা বেগম নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি শরীরে প্রচন্ড জ্বর, কাশি, গায়ে ব্যাথা নিয়ে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেন। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে রবিবার (১৬ জুলাই) খুলনা মেডিকেলে ভর্তি হন। যখন তাকে হাসপাতালে আনা হয় তার অবস্থা অনেক খারাপ ছিল। মঙ্গলবার ভোরে তার মৃত্যু হয়েছে।
ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা নিয়ে ২০ জন বাড়িতে ফিরে গেছেন। হাসপাতালে এখন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৪০ রোগী ভর্তি রয়েছে। চলতি বছরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৫৭ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. সাদিয়া মনোয়ারা উষা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় দিঘলিয়ায় পাঁচ জন ও সদর জেনারেল হাসপাতালে তিনজন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। এ দুই হাসপাতালে মোট ৯জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। খুলনার ৯ উপজেলায় চলতি বছর মোট ২৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজের পরিচালক ডা. রবিউল হাসান বলেন, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তবে তাদের চিকিৎসার কিট, ওষুধসহ যাবতীয় সরঞ্জাম পর্যাপ্ত রয়েছে।
জ্বর, গায়ে ব্যাথা ও কাশি হলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা করিয়ে নেয়ার জন্য সবাইকে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ডেঙ্গ একটি নিরাময়যোগ্য রোগ। এতে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই বলেও তিনি জানান।

