রিকশাচালককে প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনায় আইনজীবী আরতি রাণী ঘোষের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ মে) বিকালে প্রেসক্লাব যশোরের সামনে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচী পালন করেন যশোর রিকশা ভ্যান শ্রমিক লীগের রিকশা-ভ্যান চালকরা।
এদিকে, বিকেলে প্রেসক্লাব যশোরের সামনে রিকশা চালকরা মানববন্ধন করার উদ্দেশ্যে জড় হলে ঘটনাস্থলে আসেন যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু মোর্তজা। রিকশাচালকদের এমন ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেন।
তিনি বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে নারী আইনজীবী আরতি রানীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছি। আগামী তিন দিনের মধ্যে জবাব দিবেন। আইনজীবী আরতি রাণী ঘোষকে শাস্তির দেওয়া হবে বিধি মোতাবেক। মারধরের শিকার রিকশাচালক হাসপাতালে ভর্তি আছেন তাকেও দেখভাল করা হচ্ছে।’
জাতীয় ভ্যান রিকশা শ্রমিক লীগ যশোর জেলা শাখার সভাপতি আবু তাহের মিয়া বলেন, ‘আমাদের রিকশা চালক ভাইটির শরীরে একাধিক অস্ত্রোপচার করা। তার এমন শরীরের উপর একজন আইনজীবী, আইনের পোশাক পরে কিভাবে জুতা দিয়ে আঘাত করে?, আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই। নতুবা আমরা আরও বড় কর্মসূচী পালন করতে বাধ্য হবো।’
মানববন্ধনে অংশ নেয়া রিকশা চালক রিয়াজ হোসেন বলেন, আমরা রিকশা চালাই, তাই বলে কি আমরা মানুষ না? আমাদের গায়ে জুতার বাড়ি মারতে হবে?, সড়কে চলতে গেলে দূর্ঘটনা ঘটতেই পারে। কেউ তো ইচ্ছা করে দূর্ঘটনা ঘটায় না। তাই বলে একজন রিকশাচালককে জনসম্মুখে জুতা দিয়ে পেটাতে হবে এটা খুবই দু:খজনক।’
এছাড়াও মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় শ্রমিক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জবেদ আলী, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জমান বাবলু, প্রচার সম্পাদক চান মিয়া, সাবেক সভাপতি আব্দুস সবুর হেলাল। মানববন্ধনে বক্তারা এমন ন্যাকারজনক ঘটনায় নারী আইনজীবী আরতি রাণী ঘোষের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। অন্যথায় তারা আরও বড় প্রতিবাদী কর্মসূচী গ্রহন করার হুশিয়ারী দেন।
প্রসঙ্গত,গত রবিবার (৭মে) দুপুরে যশোর আদালতের সামনের সড়কে এক রিকশাচালককে প্রকাশ্যে মারধর করেন আইনজীবী আরতি রানী ঘোষ। ওই ঘটনার একটি ভিডিও ঘটনার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, কালো গাউন পরিহিত এক আইনজীবী রিকশাচালকের জামার কলার ধরে চড়থাপ্পড় দিচ্ছেন। মারতে মারতে তাকে রিকশার চাবি নিয়ে পৌরসভায় যেতে বলেন। জামার কলার ধরে বারবার রিকশাচালককে পৌরসভায় নিয়ে গিয়ে লাইসেন্স বাতিল করার হুমকিও দিতে দেখা যায়। এ সময় রিকশাচালক হাত উঁচু করে মাফ চান। এরপরও ওই আইনজীবীকে চড়াও হতে দেখা যায়। এ সময় সড়কে পথচারীরা তাকে থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে এক নারী এগিয়ে এসে প্রতিবাদ করলে ক্ষান্ত হন তিনি। এরপর ওই চালক তাঁর রিকশা নিয়ে চলে যান।

