যশোরে সড়ক দুর্ঘটনা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই সড়কে। বাড়ি থেকে বের হয়ে অনেকে নিহত অথবা আহত হয়ে ফিরছেন।
মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন বাহনের চালকদের বেপরোয়া গতি ও সড়কে চলাচলের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করায় এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে। হাইওয়ে পুলিশ ও বাংলাদেশ রোড অথরিটি কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বললেও তা পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
চলতি বছর শুরু থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় যশোরের বিভিন্ন এলাকায় ৮৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
গত ২৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় যশোর-খুলনা মহাসড়কের রাজারহাট বাজার এলাকায় ট্রাক চাপায় আব্দুস সালাম (৫৫) নামে মোটরসাইকেল-আরোহি এক মাদরাসা-শিক্ষক নিহত হয়েছেন। খুলনা থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকে চাপা পড়ে তিনি নিহত হন। নিহত আব্দুস সালামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের বিজয়নগর গ্রামে।
একইদিন বিকেলে যশোরের শার্শা উপজেলার পাকশিয়া বাজারের কাছে গোকর্ণ মোড়ে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় আহত হয় সাইকেল-আরোহি মেহেদী হাসান (১২)। পেছন থেকে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় সে আহত হয়। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে আনা হলে তার মৃত্যু হয়।
২৯ এপ্রিল শহরের চাঁচড়া চেকপোস্ট মোড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন খলিলুর রহমান (৪০)। মোটরসাইকেলে যাওয়ার পথে ট্রাকে চাপা দিলে তিনি মারা যান। তার বাড়ি ঝিকরগাছা টাওরা গ্রামে।
ওই দিন সকালে যশোর-খুলনা মহাসড়কের শাখারীগাতী নামক স্থানে বাসের সাথে সংঘর্ষে নিহত হন পিকআপচালক বরিশালের উজিরপুর উপজেলার দক্ষিণ শাতলা গ্রামের সুজন হোসেন (৩০)। এ সময় ৫ জন আহত হন।
২৬ এপ্রিল সকালে সদর উপজেলার নারাঙ্গালী বাজারে দুর্ঘটনায় মারা যায় ডুমদিয়া গ্রামের ওসমান গণির চার মাস বয়সী কন্যা তানিশা। এ ঘটনায় তার মা লিপি বেগম (২০) আহত হন।
পবিত্র ঈদের ছুটিতে পাঁচ দিনে যশোর বকচর এলাকার ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী ঐশি (২২) নিহত হয়েছেন। ওই দুর্ঘটনায় স্বামী ও দেবর আহত হন।
এ লম্বা ছুটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত অন্যরা হলেন শার্শার দক্ষিণ বুরুজবাগানের বাসিন্দা আইনজীবী মাহবুব হাসান (৫৪), গোকর্ণ গ্রামের ইকবাল হোসেন (৪২), বাঘারপাড়া উপজেলার বীরডাঙ্গা গ্রামের আল আমিন (৪৫), ঝিকরগাছা উপজেলার মোবারকপুর গ্রামের মাসুম বিল্লাহ (৬০) ও বাঁকড়া গ্রামের আরশাদ আলী। এ নিয়ে গত এপ্রিলে ২৫ জন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।
১ জানুয়ারি থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৮১ জন। এ সময় ৫০০ জনের বেশি মানুষ এ জেলায় বিভিন্ন সড়কে আহত হয়েছেন। বেশিরভাগ লোক আহত ও নিহত হয়েছেন বেপরোয়া মোটরসাইকেল ও ট্রাক দুর্ঘটনায়। এছাড়া দুর্ঘটনা ঘটেছে পিকআপ, ব্যাটারিচালিত ভ্যান, ইজিবাইক, আলমসাধুসহ বিভিন্ন যানবাহনে।
সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে হাইওয়ে পুলিশ, বিআরটিএ ও ট্রাফিক পুলিশ। এ সময় তাদের ভূমিকা ছিল গৌণ। ফলে যানবাহনের গতি ছিল বেপরোয়া।
নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানার ইনচার্জ এসআই শাহ আলম বলেন, আমরা সড়ক নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি। কেউ মারা গেলে লাশ ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করি। তবে লাশের স্বজনরা মামলা না করলে কিছু করার থাকে না। ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দিতে হয়। এ কারণে ইউডি মামলা হয়।
বিআরটিএ যশোর জেলার সহকারী পরিচালক এস এম মাহফুজুর রহমান বলেন, সড়ক নিয়ন্ত্রণে জেলা- উপজেলা পর্যায়ে কমিটি আছে। এ কমিটির মাধ্যমে আমরা জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম চালাচ্ছি। বিভিন্ন সড়কে গতি নিয়ন্ত্রণে তারা অভিযান পরিচালনা করছেন বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

