যশোরের খড়কি এলাকার মধ্যবিত্ত সালেহা বেগম বললেন, ৯টি পণ্য ৫৫০ টাকায় কিনতে পেরে আমি দারুণ খুশি। এ নিয়ে তৃতীয়বার তিনি এই দামে পণ্য কিনলেন। এভাবে শান্তিতে রমজান মাস কাটাতে পারবো কল্পনাই করিনি। রমজানে বাজার কীভাবে করবো এই চিন্তায় নাভিশ্বাস উঠছিলো। অবিশ্বাস্যভাবে এই বাজারের সুযোগ পেয়ে সত্যিই আমি অনেক খুশি। আমাদের সাধ্যের নাগালে সব পণ্যের দাম।
শনিবার (৮ এপ্রিল) যশোরের আইডিয়া সমাজকল্যাণ সংস্থার লস প্রজেক্ট থেকে পণ্য ক্রয়ের পর তিনি এই অভিব্যক্তি জানান। গোটা রমজান মাসজুড়ে আইডিয়া লস প্রজেক্টে অর্ধেক মূল্যে পণ্য বিক্রি করছে।
‘মানবকল্যাণে আমরা ঠকতে চাই’ কিংবা ‘ইহলৌকিক লস সমান পারলৌকিক লাভ’ এমন শ্লোগানে ২৩ মার্চ লস প্রজেক্টের প্রথমদিনের বাজার বসে। এই বাজারে অর্ধেক দামে ৯টি পণ্য বিক্রি করছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। একজন ক্রেতা-পরিবার প্রতি ৫৪ টাকা কেজি দরের চাল ২৫ টাকায় ৫ কেজি, ২৫ টাকা কেজি দরের আলু ১০ টাকা করে ২ কেজি ও বাকী ৭ টি পণ্য ১ কেজি করে- ১৪০ টাকা দরের ডাল ৪০ টাকায়, ১২০ টাকা দরের চিনি ৪৫ টাকায়, ১৯০ টাকা লিটারের তেল ১২০ টাকায়, ৪৫ টাকা দরের পেঁয়াজ ২০ টাকায়, ৯৫ টাকা দরের ছোলা ৬০ টাকায়, ৬০ টাকা দরের চিড়া ২০ টাকায়, ৩২০ টাকা দরের খেজুর ১০০ টাকায় ক্রয় করছেন। প্রতি পরিবার সপ্তাহে একবার করে রমজানে মোট চারবার এই বাজার করার সুযোগ পাবে। বাজারদর পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সমমানের এই ৯টি পণ্য একজনের ক্রয় করতে প্রয়োজন ১২৮৭ টাকা, যা তারা ৫৫০ টাকায় দিচ্ছে আইডিয়া লস প্রজেক্টের বাজারে।
শনিবার (৮ এপ্রিল) লস প্রজেক্টের তৃতীয় বাজার বসেছিল আইডিয়া চত্বরে। ৫৩৭টি নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবার এদিন রমজান মাসে তৃতীয়বারের মতো অর্ধেক দামে পণ্য কিনে হাসিমুখে বাড়ি ফিরেছেন।
যশোরের আইডিয়া সমাজকল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সহকারী অধ্যাপক হামিদুল হক শাহীন বলেন, মধ্যবিত্ত দান চায় না, ত্রাণ চায় না, চায় পরিত্রাণ। আমাদের সাধ্যের মধ্যে আমরা সেই চেষ্টাই করছি। আমরা কিছু মানুষ যোগ হলেই সম্ভব বহু মানুষের পরিত্রাণের ব্যবস্থা। আমার শিক্ষার্থীদের শেখাতে চাচ্ছি সকল লস আসলে লস নয়, মানব সেবায় লস বরং লাভের চেয়েও বেশিকিছু। গতবছর লস প্রজেক্ট এর মাধ্যমে সেই তৃপ্তির স্বাদ আমার শিক্ষার্থীরা পেয়েছে। এ বছর-ও তাই এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।
হামিদুল হক শাহীন আরো বলেন, এটি আমাদের অত্যন্ত ক্ষুদ্র একটি প্রচেষ্টা যেন সমাজের সকলের সামনে এই এলাকা মডেল হয়। আমাদের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় যদি ৫৩৭ পরিবার স্বস্তি পায়, তাহলে আরো নানান এলাকায় সংঘবদ্ধভাবে এই চেষ্টা আরো মানুষকে মুক্তি দিতে পারবে। রমজানে বহু অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে মধ্যবিত্তের যে দুঃশ্চিন্তার কারণ হয়, তার জবাব স্বরূপই তরুণ স্বেচ্ছাসেবী দের এই আয়োজন।
আইডিয়া লস প্রজেক্ট’র সমন্বয়ক হারুন অর রশিদ জানান, রমজানে এর আগে দুই সপ্তাহের বাজার সম্পন্ন হয়েছিল। শনিবার তৃতীয় দফা বাজার থেকে অর্ধেক দামে নির্ধারিত ৫৩৭টি পরিবার তাদের পণ্যসামগ্রী ক্রয় করেছেন। তাদের খুশি দেখেই আমাদের প্রশান্তি।
পণ্যসামগ্রী বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন, আইডিয়া সমাজকল্যাণ সংস্থার সভাপতি সোমা খান, আইডিয়া যুব উন্নয়ন কেন্দ্রের সভাপতি তানজিয়া জাহান মমতাজ, আইডিয়া স্পোকেন এর সমন্বয়ক নাবিলা সুলতানা, উইনির সিইও মল্লিকা আফরোজ, স্বেচ্ছাসেবক আবুজার রহমান, ইউসুফ, দীপ্ত সিংহ প্রমুখ।

