বাংলাদেশসহ চার দেশে শনিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মাত্রায় (৬ দশমিক ১ মাত্রায়) জাপানের উত্তরাঞ্চলের হোক্কাইডোতে ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ (ইউএসজিএস) এবং জাপান আবহাওয়া সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে। মিয়ানমারে মাঝারি মাত্রার জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। গতকাল স্থানীয় সময় বিকেলের দিকে দেশটির আয়াবতী ও রাখাইন রাজ্যে এ দুই ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে বাংলাদেশের কক্সবাজারেও। এদিকে ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে তুরস্কেও।
জাপানের ভূমিকম্প: ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি রাত ১০টা ২৭ মিনিটে প্রায় ৪৩ কিলোমিটার গভীরতায় আঘাত হানে। সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকেতে কথা বলা একজন বিশেষজ্ঞ বাসিন্দাদের প্রায় এক সপ্তাহ ভূমিকম্প নিয়ে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন। ভূমিকম্পে উপকূলীয় শহর কুশিরো ও নেমুরোকে কেঁপে ওঠে। তবে উপকূলীয় ভূমিকম্পের পর কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। এ ছাড়া জাপানের গণমাধ্যমগুলোতে ক্ষয়ক্ষতি বা আঘাতের কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।
মিয়ানমার ও কক্সবাজার: ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প কেন্দ্র (ইএমএসসি) বলেছে, মিয়ানমারে আঘাত হানা ভূকম্পন বাংলাদেশের কক্সবাজার এবং ভারতের কিছু এলাকায়ও অনুভূত হয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক শনিবার বলেন, আগারগাঁও থেকে ৩৭৮ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে মিয়ানমারে এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল। স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৩৯ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডে উৎপত্তি হওয়া এ ভূমিকম্পের রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১।
ভূমিকম্পের তথ্য রাখা ওয়েবসাইট ভলকানো ডিসকভারি বলেছে, বঙ্গোপসাগর থেকে ১২৫ কিলোমিটার পূর্বদিকে মিয়ানমারের আয়াবতী রাজ্যের পাথিন অঞ্চলে স্থানীয় সময় দুপুর ৩টা ৩৬ মিনিটে ভূমিকম্পে প্রথম কেঁপে ওঠে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার। রিখটার স্কেলে কম্পনটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৯। এতে এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এর কিছুক্ষণ পরই রাখাইন রাজ্যে ৪ দশমিক ১ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। যার উৎপত্তি বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে ৯ দশমিক ৭ কিলোমিটার উত্তরে।
তুরস্ক: তুরস্কে আজ শনিবার আবারো ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার খবরে বলা হয়, মধ্য আনাতোলিয়া অঞ্চলের নিগদে প্রদেশে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে বলে দেশটির ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণকারী কেন্দ্র কানদিলি জানায়। আর রয়টার্স জানায়, ইউরোপিয়ান-মেডিটারিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৫।
তুরস্কের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা এএফএডি জানায়, এই ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল ভূমি থেকে সাত কিলোমিটার গভীরে। স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে বোর জেলায় ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়।
৬ ফেব্রুয়ারি ভোরে তুরস্ক ও সিরিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে দুই দেশে নিহত মানুষের সংখ্যা বেড়ে ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে।

