যশোরে শ্রুতিমধুর না এমন পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে নতুন নাম প্রস্তাব করা হয়েছে।
আগামী ছয় মাসের মধ্যে এসব শ্রুতিকটু স্কুলের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে বলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদফতরের জানিয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি নীতিমালাও করা হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে জানা গেছে, শ্রুতিকটু পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হচ্ছে, অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া পৌরসভার কয়লাঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চৌগাছার আদমপুর হোগলাডাঙ্গা মাংগীরপাড়া সুরত আলী মৃধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়. মাংগীরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চুটারহুদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সদর উপজেলার কারা আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়, কেন্দ্রীয় কারাগার, যশোর।
এই পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রুতিমধুর নাম করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। স্কুল থেকে এসব প্রস্তাব এসেছে।
নওয়াপাড়া পৌরসভার কয়লাঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম সবুজবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। একইভাবে চৌগাছার আদমপুর হোগলাডাঙ্গা মাংগীরপাড়া সুরত আলী মৃধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম হোগলাডাঙ্গা সুরত আলী মৃধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় করার প্রস্তাব দিয়েছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। একই উপজেলার মাংগীরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রুতিমধুর নাম মদিনানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। চৌগাছার চুটারহুদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন নামের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে রাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে কারা আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়, কেন্দ্রীয় কারাগার, যশোরেরও। এই প্রাথমিক বিদ্যালয়টির নাম প্রিজন্স পাবলিক স্কুল, যশোর করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রুতিকটু ও নেতিবাচক নাম পরিবর্তনে একটি নীতিমালা করা হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে পরিবর্তিত নামের গেজেট করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অধিদফতরের কর্মকর্তারা।
যশোরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনেকগুলোর নাম শ্রুতিকটু ও নেতিবাচক ভাবার্থ সংবলিত। এমন অবস্থা যশোরেও রয়েছে। যা শিশুর রুচি, মনন, বোধ ও পরিশীলিতভাবে বেড়ে ওঠার জন্য অন্তরায়। এ কারণে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এসব বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে সুন্দর, রুচিশীল, শ্রুতিমধুর এবং স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, বীরমুক্তিযোদ্ধাসহ স্থানীয় ইতিহাস, সংস্কৃতির সঙ্গে মানানসই নামকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শ্রুতিকটু স্কুলের নাম পরিবর্তনের জন্য উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে দুটি কমিটি করে দেয়া হয়েছে। কমিটির মাধ্যমে প্রস্তাব আসছে। এরপর অধিদফতরের মাধ্যমে আগামী ছয় মাসের মধ্যে শ্রুতিকটু নাম পরিবর্তন করা হবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুস সালাম বলেন, শ্রুতিকটু স্কুলের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব পেয়েছেন। এগুলো অধিদফতরে পাঠানো হবে। অধিদফতরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
সম্প্রতি শ্রুতিকটু নাম পরিবর্তন করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রুচিশীল নামকরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন। ছয় মাসের মধ্যে প্রস্তাবিত নতুন নাম নিয়ে গেজেট প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শ্রুতিকটু ও উচ্চারণ অযোগ্য ২০০ স্কুলের নামের তালিকা করেছে মন্ত্রণালয়। এসব প্রাথমিক স্কুলের নাম স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষের প্রস্তাবিত নাম অনুযায়ী পরিবর্তন করা হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, কিছু স্কুলের নাম চর কাউয়া, চোরের ভিটা, মহিষ খোঁচা। খোদ প্রতিমন্ত্রীর এলাকার স্কুলের নাম মহিষ খোঁচা। এসব স্কুলের নাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিদ্যমান নাম পরিবর্তন নীতিমালার আওতায় পরিবর্তন করা হবে। স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তি, মুক্তিযোদ্ধা ও সংস্কৃতির সঙ্গে মানানসই নাম দিতে হবে।
আগামী ৬ মাসের মধ্যে স্কুলের নাম পরিবর্তনের গেজেট প্রকাশের সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সচিব ফরিদ আহম্মদ।

