যশোর জেনারেল হাসপাতালের ১২ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

আরো পড়ুন

যশোর জেনারেল হাসপাতালের বর্তমান ও সাবেক ১২ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন পৃথক তিনটি আদালত।

নির্ধারিত সময়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক আদালতে হাজির না হলে আদালত অবমাননার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের গ্রেফতার করা হবে।

রবিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আদালতের আদেশের কপি হাসপাতালের প্রশাসনিক শাখায় পৌঁছেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জেলা সিভিল সার্জন ডা. বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস।

ইতোমধ্যে আদালতের আদেশের কপি প্রজ্ঞাপন আকারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান বরাবর পাঠানো হয়েছে। যার স্মারক নং সিএসজি/এস-৭/সমন/ ২০২৩/ ৬০৬, ৬০২, এবং ৬০৮-১০।

সিভিল সার্জন ডা. বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস জানান, হাসপাতালে রোগীর জখমি, মৃত ব্যক্তির ময়নাতদন্ত, ধর্ষণের প্রতিবেদন মামলা নিষ্পত্তির জন্য দিয়ে থাকেন। পরবর্তীতে এর প্রতিবেদনের আলোকে আদালত চিকিৎসকের সাক্ষ্য (বক্তব্য) নেয়ার জন্য তলব করেন। কিন্তু একাধিক বার সাক্ষ দিতে না যাওয়ার কারণে এবং শেষ সুযোগ প্রদানসহ চুয়াডঙ্গা, যশোর ও নাড়াইল আদালত অবমাননার অভিযোগে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে সমন পরবর্তী গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

আগামী মার্চে ৯ তারিখে চুয়াডাঙ্গা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, যশোরের অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মার্চের ১৪ তারিখে সমন পরবর্তী নিয়মিত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়া চিকিৎসকরা হচ্ছেন- ইমারাজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুর রহমান, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারের হাসপাতালে কর্মরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুস সামাদ, ঝিনাইদহ মেটসের পরিচালক ডা. আরিফ আহম্মেদ, নড়াইল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. কাজল মল্লিক, অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ওহিদুজ্জামান ডিটু, শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইউনস আলী, সাবেক চিকিৎসক ডা. মুসতাঈন বিল্লাহ, ডা. হাসান মাহমুদ হাদী, সাবেক হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল মালেক, হাসপাতালে বর্তমানে কর্মরত ডা. কল্ল্যোল কুমার শাহাসহ ৩ জন রয়েছেন।

আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুস সামাদ বলেন, চুয়াডাঙ্গা থেকে কোনো চিঠি আগে পাইনি। এছাড়াও হাসপাতালের কাজ করতে গিয়ে আদালতে যাওয়া হয় না। এবার প্রথম সিভিল সার্জনের মাধ্যমে আদালতের প্রজ্ঞাপন হাতে পেয়েছি। নির্ধারিত সময়ে আদালতে হাজির হব।

তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান বলেন, সিভিল সার্জনের অফিস থেকে দে আদালতের আদেশ কপি হাতে পেয়েছি, বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এই চিকিৎসক হাসপাতালে থাকা অবস্থায় রোগীর জখমি, মৃত ব্যক্তি ময়না তদন্ত, ধর্ষণের প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন সনদ প্রদান করেন। পরবর্তীতে চিকিৎসক বদলি ও অবসরে যাওয়ার কারণে, এছাড়া সঠিক সময়ে আদালতের আদেশ না পাওয়ার জন্য এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ঠ চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে চিঠি দেয়া হচ্ছে।

আরো পড়ুন

3 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ