যুবলীগ নেতাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করলো চেয়ারম্যানপুত্র

আরো পড়ুন

লক্ষ্মীপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সবুজ ছৈয়াল নামে এক যুবলীগ নেতাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। সদর উপজেলার চররমনী মোহনের ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে আবু সুফিয়ান এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগীর স্বজনরা। সবুজ বর্তমানে রাজধানীর ধানমন্ডি গ্রীণ রোডের নিউ লাইফ হাসপাতালের আইসিইউতে রয়েছেন।

রবিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সবুজের ভাই মিন্টু ছৈয়াল এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সন্ধ্যার দিকে চররমনী মোহন ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর চররমনী মোহন গ্রামে ছোট ব্রিজের ওপর সবুজকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন আবু সুফিয়ান ও তার লোকজন।

সবুজকে পেটানোর ঘটনায় সুফিয়ান জড়িত ছিল বলে ঘটনার দিন বিকালে মোবাইলফোনে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানিয়েছেন তার বাবা ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইউছুফ ছৈয়াল। তিনি বলেন, সবুজ আমার ভাতিজা। এটি আমাদের নিজস্ব ব্যাপার। তার চিকিৎসার সব খরচ আমি দেবো বলেছি। মারধরের সময় আমরা ছেলেসহ অন্যরাও ছিল।

তবে অভিযুক্ত আবু সুফিয়ান জানান, তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। কারা হামলা করেছে তাও জানেন না তিনি।

সবুজ চররমনী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের আহ্বায়ক ও উত্তর চররমনী মোহন গ্রামের মৃত আমির হোসেন ছৈয়ালের ছেলে।

মিন্টু ছৈয়াল জানান, চেয়ারম্যান ইউছুফ ছৈয়ালদের সঙ্গে আমাদের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এর জের ধরেই শনিবার সন্ধ্যায় ছোট ব্রিজ এলাকায় সুফিয়ান লোকজন নিয়ে সবুজের ওপর হামলা চালায়। এ সময় জিআই পাইপ ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে তাকে। হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে খালে ঝাঁপ দেন সবুজ। সেখান থেকে তুলে আরেক দফা মারধর করা হয় তাকে। পরে মৃত ভেবে ফেলে চলে যায় তারা। সে সময় সবুজের সঙ্গে তার স্ত্রী ফাহিমা আক্তার ও শিশুও ছিল। পরে সবুজকে উদ্ধার করে প্রথমে সদর হাসপাতালে নেয়া হয়।

সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে স্বজনরা তাকে ধানমণ্ডির নিউ লাইফ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে বর্তমানে আইসিইউতে রয়েছেন সবুজ।

ফাহিমা আক্তার জানান, মজুচৌধুরীরহাটে ফার্মেসি থেকে ওষুধ নিয়ে মেয়ে আলিফাকে নিয়ে সবুজের মোটরসাইকেলযোগে তারা বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় সুফিয়ান মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন। পরে লাথি দিয়ে সবুজকে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দিয়ে জিআইপাইপ ও লাঠি দিয়ে বেদম পেটায় সুফিয়ানসহ তার লোকজন। তার পায়ে ধরেও সবুজকে তাদের পিটুনি থেকে রক্ষা করতে পারিনি।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি কেউ পুলিশকে জানায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরো পড়ুন

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ