যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় মিনহাজুল আবেদীন (২৬) নামে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে পরিবারের সদস্যরা নিজ ঘর থেকে তার লাশ উদ্ধার করেন।
তিনি ঘরের ফ্যানের সঙ্গে মাফলার জড়িয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের।
মিনহাজুল আবেদীন উপজেলার সালামতপুর গ্রামের স্কুল শিক্ষক ফারুক হোসেনের ছেলে। তিনি সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) গণিত বিভাগের ছাত্র ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিকস বিষয়ক সংগঠন ‘রোবো আড্ডা’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন মিনহাজুল।
পরিবারের সদস্যরা জানায়, ১৫-১৬ দিন আগে মিনহাজুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মণিরামপুরের বাড়িতে আসেন।
মিনহাজুলের বাবা ফারুক হোসেন বলেন, আমার ছেলে সব সময় রোবট নিয়ে গবেষণা করতো। নিয়মিত সারারাত ঘুমাতো না। রাত জেগে এ নিয়ে কাজ করতো। ভোর হলে ঘুমাতো। রোবট বলতে বলতে সে মানসিক রোগী হয়ে যায়। আমরা তাকে বিভিন্ন জায়গায় ডাক্তার দেখিয়েছি। ও এবার অনার্স শেষ বর্ষে পরীক্ষা দিয়ে এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছিলো।
ফারুক হোসেন আরো বলেন, বুধবার রাতে খাবার খেয়ে ও নিজ ঘরে দরজা দিয়ে অনলাইনে মিটিং করছিলো। এটা দেখে আমরা ঘুমিয়ে পড়ি। ভোরে উঠে আমার স্ত্রী ছেলের ঘরে আলো জ্বলতে দেখে। তখন সে জানালা দিয়ে দেখতে পায় ছেলে ফ্যানের সাথে ঝুলে আছে। পরে দরজা ভেঙে আমরা লাশ উদ্ধার করি।
খেদাপাড়া ক্যাম্প পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সমেন বিশ্বাস বলেন, মিনহাজুল আবেদীনের আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ জানা যায়নি। তার পরিবারের সদস্যরা আমাদের জানিয়েছেন, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়ে বিদেশে যাওয়ার কথা। অন্যরা গেছেন। ভিসা জটিলতার কারণে মিনহাজুল যেতে পারেননি। অতি মেধাবী হওয়ায় রোবট নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তিনি মানসিক রোগী হয়ে গেছেন। এর আগেও তিনি একাধিকবার আত্মহত্যার কথা বলেছেন। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তার বাবা-মাকে সতর্ক করেছিলেন। এ ছাড়া পরিবারের সাথে তার কোনো ঝগড়া-বিবাদ ছিল না।
মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

