ইছামতী নদীতে ১৫০ মিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন

আরো পড়ুন

প্রবল জোয়ারের তোড়ে ফসলরক্ষা বাংলাদেশ ও ভারতের আন্তর্জাতিক সীমানা নির্ধারণী নদী ইছামতীর বেড়িবাঁধের প্রায় ১৫০ মিটার এলাকাজুড়ে ভয়াবহ ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভাতশালা এলাকায় ভয়াবহ এ ভাঙন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নদীপাড়ের বাসিন্দাদের অভিযোগ, ইছামতীর ভাতশালা নামক স্থানটি গত আট-নয় মাস ধরে অব্যাহতভাবে ভেঙেই চলেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) তা মেরামতের জন্য বারবার জানানো হলেও কোনো লাভ হচ্ছে না। এর মধ্যে গত কয়েকদিন বেড়িবাঁধে ফাটলের পরিমাণ ক্রমশ বাড়ছে। যেকোনো সময় বাঁধটি ভেঙে আশপাশের এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে দেবহাটা সদর ইউনিয়নের অন্তত পাঁচ গ্রামের মানুষ।

ইছামতি পাড়ের বাসিন্দা আব্দুল জলিল, নূর হোসেন ও ফেরদৌসী বেগম জানান, ভাতশালা এলাকায় ভাঙন এতই তীব্র, জনসাধারণের চলাচলের রাস্তাসহ অনেক বাড়িঘর যেকোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। জরুরি ব্যবস্থা না নিলে ভাতশলা ছাড়াও পাশের সুশীলগাতী, নাংলাসহ বহুগ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরিভাবে কংক্রিটের ব্লক, বালিভর্তি বস্তা ডাম্পিংয়ের পাশাপাশি নদী ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান তারা।

ইছামতিপাড়ের বাসিন্দাদের অভিযোগ, সাতক্ষীরা পাউবোর কিছু অসাধু কর্মকর্তার গাফিলাতি ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে উপকূলের অধিকাংশ এলাকার বেড়িবাঁধের বর্তমান অবস্থা খুবই নাজুক। ফলে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেই সামান্য জলোচ্ছ্বাসে বাঁধ ভেঙে জেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়।

দেবহাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণেই মূলত ইছামতি নদীর বেড়িবাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আট-নয় মাস আগে প্রথম পর্যায়ে ভাঙন শুরু হলে তাদের বিষয়টি জানানো হয়। পরবর্তী সময়ে আরো একাধিকবার ভাঙন মেরামতের জন্য তাগিদ দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ফলে বেড়িবাঁধের ভাঙন ও ফাটল মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট এসও সাইদুর রহমান বলেন, ভাঙনকবলিত বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেছি। ভাঙনের মাত্রা তীব্র হওয়ায় কেবল কংক্রিটের ব্লক এবং বালিভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করে তা রোধ কষ্টসাধ্য। মূলত ভাঙনকবলিত ওই এলাকাটিতে নতুন করে রিং বাঁধ দেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে, কিন্তু স্থানীয়রা রিং বাঁধ নির্মাণের পক্ষে মত দিচ্ছে না। তবুও শিগগিরই বালির ব্যাগ ও ব্লক ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।

আরো পড়ুন

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ