বেশি দাম দিয়েও এলপিজি পাচ্ছে না গ্রাহক

আরো পড়ুন

নতুন করে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ায় আবাসিক পর্যায়ে জ্বালানি হিসেবে এলপিজিনির্ভরতা বেড়েছে গত কয়েক বছরে। রাজধানীর বনশ্রী এলাকার বেশিরভাগ বাসিন্দার মতো আতাউল শেখের বাসাতেও রান্নার কাজে ব্যবহার হয় এলপিজি সিলিন্ডার।

বনশ্রী সি-ব্লকের অ্যাভিনিউ রোডের একটি দোকান থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট একটি কোম্পানির সিলিন্ডার কেনেন আতাউল। ফোন দিলে দোকানের লোক বাসায় সিলিন্ডার দিয়ে যায়, এভাবেই চলে আসছে দীর্ঘদিন।

কিন্তু এবার অন্যরকম অভিজ্ঞতা হয়েছে আতাউলের। কয়েকদিন ধরে ওই দোকানে বারবার ফোন দিয়েও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।

দোকানি বলছেন, ঠিকভাবে সরবরাহ না পাওয়ায় তিনি গ্যাস দিতে পারছেন না। তার ট্রাক নাকি ফ্যাক্টরিতে গিয়ে তিন-চার দিন বসে থাকার পরও চাহিদার অর্ধেক গ্যাস নিয়ে ফিরতে হচ্ছে। ওই দোকানির তথ্য যাচাই করতে গত শুক্রবার বনশ্রীর বিভিন্ন দোকানে গিয়ে খোঁজ নেন আতাউল। সরবরাহ সংকটের কথা বলেছে প্রায় সবাই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেল, চলতি মাসে সরকারিভাবে দাম সমন্বয়ের ঘোষণার পরপরই এলপিজির বাজারে সংকট দেখা দিয়েছে। সরবরাহ না থাকার অজুহাতে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে দাম। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতি কেজি এলপিজিতে ২৭ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে গ্রাহককে। তারপরও চাহিদা অনুযায়ী জোগান মিলছে না। দেশে এখন এলপিজির মাসিক চাহিদা ১ লাখ ২০ হাজার টন। রান্নাঘরের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি যানবাহনের জ্বালানি হিসেবেও এলপিজি ব্যবহার হচ্ছে।

সংকটের কারণ জানতে কথা হয় কয়েকজন ডিলারের সঙ্গে। বনশ্রী, রামপুরা, খিলগাঁও ও পল্টন এলাকার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে এলপিজি সরবরাহ করে রিলায়েবল এন্টারপ্রাইজ।

প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী জাহিদ জানান, প্রতিদিন তার চাহিদা ১৫ টন। কিন্তু কয়েকদিন ধরে ছয় টনের বেশি সরবরাহ পাচ্ছেন না। কোম্পানির কাছে সংকটের কারণ জানতে চেয়েও সদুত্তর পাচ্ছেন না জানিয়ে জাহিদ বলেন, আমাদের কিছু বলা হচ্ছে না। শুধু বলা হচ্ছে মাল কম আছে, কম নিতে হবে।

এদিকে সরবরাহ কম থাকায় এলপিজির দাম নিয়ে ভোগান্তি বেড়েছে গ্রাহকের। বিশেষ করে রান্নার কাজে এলপিজি ব্যবহারকারীরা পড়েছেন সবচেয়ে বিপত্তিতে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিলিয়ে প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দেয় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। কিন্তু গ্রাহকপর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে, বেঁধে দেওয়া দামে গ্যাস কিনতে পারেন না তারা।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চলতি মাসে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ২৩২ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে বিইআরসি। কিন্তু গ্রাহককে তা কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৫৫০ টাকায়। প্রতি সিলিন্ডারে অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে ৩১৮ টাকা। প্রতি কেজিতে নির্ধারিত দামের চেয়ে ২৭ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে।

ডিলারের দাবি, বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে গ্রাহকের কাছে বেশি দাম নিচ্ছেন তারা। ডেমরা, কদমতলী, রামপুরা ও খিলগাঁও এলাকায় এলপিজির আরেক ডিলার খন্দকার এন্টারপ্রাইজ।

এই প্রতিষ্ঠানের মালিক জানালেন, তিনি নিজেই ১২ কেজি এলপিজির সিলিন্ডার কিনছেন ১ হাজার ৩২০ টাকায়। সঙ্গে পরিবহন ব্যয় হিসেবে যুক্ত হচ্ছে আরও ২০ টাকা। বিইআরসি ভোক্তাপর্যায়ে দাম ঠিক করেছে ১ হাজার ২৩২ টাকা। অথচ ডিলারের বিক্রয়কেন্দ্রে সিলিন্ডার পৌঁছাতেই নির্ধারিত দামের চেয়ে ১০৮ টাকা বেশি খরচ হচ্ছে।

দেশের এলপিজির বাজার পুরোপুরিই আমদানিনির্ভর। বাড়ন্ত এই বাজার বেসরকারি উদ্যোক্তাদের একক নিয়ন্ত্রণে। দেশে সরকারি কোম্পানির প্রস্তুত করা সীমিত পরিমাণ এলপিজি খোলাবাজারে খুব একটা সহজে মেলে না।

আন্তর্জাতিক বাজার পর্যালোচনা করলে দেশে এ মুহূর্তে এলপিজি সংকটের তেমন কোনো কারণ নেই বলে জানালেন জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা।

জানতে চাইলে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন (লোয়াব) সভাপতি আজম জে চৌধুরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, এলসি (ঋণপত্র) লিমিটের কারণে সবাই এলসি খুলতে পারছে না। এজন্য দেশে এলপিজি আমদানি কম হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে সরবরাহ কম থাকলে বাজারে অতিরিক্ত চাহিদার জন্য দাম বেড়ে যায়। এক্ষেত্রেও তা-ই হচ্ছে বলে মনে করেন ওমেরা গ্যাস কোম্পানির এই কর্ণধার।

সাম্প্রতিক সময়ে কে কী পরিমাণ এলপিজি আমদানি করেছে, তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে তার পক্ষে বলা সম্ভব নয়।

আরো পড়ুন

3 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ